স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরীর গাজীপুরা এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তিন কর্মীকে কুপিয়ে পৌনে দুই লাখ টাকা ছিনতাই হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাত ৯টার দিকে মহানগরীর গাজীপুরা এলাকার সুসল সিএনজি স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে গাজীপুরা এলাকার সুসল সিএনজি স্টেশনের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন স্থানীয় প্যারাসুট নারিকেল তেল কম্পানির পরিবেশক মো. সেলিম (৩৭), বিক্রয়কর্মী রাজন (৩২) ও এরশাদ (৪২)। ছিনতাইকারীরা তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সেলিমের কাছে থাকা এক লাখ ৮১ হাজার টাকা ও একটি দামী মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্য দুইজন এখনো তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী মো. সেলিমের বাড়ি ফেনীর লক্ষীপুর। রাজন ও এরশাদ টঙ্গী পূর্ব থানার বনমালা এলাকায় বাস করেন।
এদিকে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে নগরীর গাছা, টঙ্গী পশ্চিম ও টঙ্গী পূর্ব থানার মধ্যে শুরু হয়েছে ঠেলাঠেলি। তিন থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ঘটনাস্থল নিজ থানা এলাকার নয় বলে জানান।
গাছা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তার আগেই স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে নগরীর তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। তবে ঘটনাস্থল আমার থানা এলাকার মধ্যে নয়। স্থানটি টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার। তারপরও আহতরা সুস্থ হলে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলটি তার এলাকার নয়। এটি গাছা বা টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, মোটেও ঘটনাস্থলটি আমার থানার এলাকায় নয়। ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) স্যারসহ সেখানে যাই। ঘটনাটি ঘটেছে কুনিয়ার সুলল সিএনজি স্টেশনের কাছে। সিএনজি পাম্প মালিক ও স্থানীয়রা বলেছে, এলাকাটি গাছা থানা এলাকার মধ্যে পড়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, মহানগরের কয়েকটি থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি কখনো কখনো তৈরি হয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।