নিজস্ব প্রতিবেদক :: শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন সাহস থাকলে দেশে এসে রাজনীতি করেন, দিল্লিতে বসে দেশের ক্ষতি করবেন না। জনগণের প্রতি ভালোবাসা থাকলে পালিয়ে আছেন কেন, আসেন না কেন দেশে? আমরাও জেল খেটেছি দীর্ঘদিন, আপনারাও খাটেন কিছুদিন। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে ছিলেন ছয় বছর। আপনারা আসেন, ছয়-সাত বছর জেল খাটেন। তারপরে না হয় আপনারা কথা বলবেন।’ আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন কে কে বাড়ি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বড়গাঁও ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে ভুলে গেছে এবং শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে ‘হরতাল ঘোষণা করেছেন’ এবং ‘কিছু পোলাপান দিয়ে গাড়ি পোড়াচ্ছেন’।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দিল্লিতে গিয়ে আরামে বসে থাকবে, তাদের কি আমরা এ দেশে আসতে দেব?’ শেখ হাসিনার উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাহস থাকলে আসো? এই দেশের জনগণের সামনে এসে রাজনীতি করো। দিল্লিতে বসে দেশের সর্বনাশ আর কইরো না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারা সন্ত্রাসী, সন্ত্রাস দিয়ে টিকে থাকতে চান। এই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমা করবে না।’
মির্জা ফখরুল প্রশ্ন করেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে আপনি ভোট দেবেন এখানে, ঢাকায় ঠিক হবে কে আপনার এমপি হবে। এটা হলো?’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘সরকার যদি ৯ মাসের সংস্কার আলাপের বাইরে কোনো কিছু গায়ের জোরে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, তার সব দায়দায়িত্ব আপনার। বিএনপি শুধু ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলোর পক্ষেই থাকবে।’
মির্জা ফখরুল ইউটিউবে জনৈক মাওলানা সাহেবের ৫৪ বছরের প্রতিশোধ নেওয়ার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর অর্থ হলো “উনি বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন না’, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার শামিল।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কাজের ব্যবস্থা করা হবে। ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ কেনার জন্য প্রতিটি বাড়িতে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কৃষক ভাইদের ফার্মাস কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সার, বিষ, পানি ন্যায্যমূল্যে কিনতে পারবে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হবে, যাতে ন্যায়বিচার স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন এবং সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করেছিলেন। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন দিয়েছিলেন।মতবিনিময় সভায় জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতারা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।