স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী প্রেসক্লাবের নামে ইউনিয়ন ব্যাংকের টঙ্গী শাখায় ভুয়া একাউন্ট খুলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক লাখ টাকার অনুদান আত্মসাতের মামলায় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী হায়দার ওরফে এম এ হায়দার সরকারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) মামলার ধার্য তারিখে আসামীরা আদালতে অনুপস্থিত থাকলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং–০৪ এর বিচারক যুবায়ের রশীদ এ পরোয়ানা জারি করেন।
আসামীরা হলেন, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী হায়দার ওরফে এম এ হায়দার সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল, সাবেক কোষাধ্যক্ষ হাসান মামুন, কথিত সহসাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর রাজীব এবং তাদের সহযোগী কামাল হোসেন।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গাজীপুর সিআইডি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। তদন্তে জানা যায়, আলী হায়দার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হয়েও ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পরিচয় গোপন রেখে সহযোগী আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশে ইউনিয়ন ব্যাংকের টঙ্গী শাখায় প্রেসক্লাবের নামে একটি ভুয়া একাউন্ট খুলেন। পরবর্তীতে তারা একযোগে প্রেসক্লাব উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক লাখ টাকার অনুদানের চেক গোপনে ওই একাউন্টে জমা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আজিজুল হক বলেন, “আসামীরা ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর হিসেবে অবৈধভাবে প্রেসক্লাব দখল করে রেখেছিল। ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন না হলে এরা আজও বহাল তবিয়তে দখলদারিত্ব বজায় রাখতো। বৈধ কমিটির ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ সম্ভব না হওয়ায় তারা গোপনে ভুয়া একাউন্ট খুলে সরকারি অনুদান আত্মসাৎ করে।” এর আগে একই আসামীদের বিরুদ্ধে টঙ্গী প্রেসক্লাবের ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। তাছাড়া, তৃতীয় বিভাগে এসএসসি পাস হয়েও স্নাতক পাস দাবি করে প্রেসক্লাব নির্বাচনের মনোনয়ন ফরমে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ায় আলী হায়দারের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান।