মো: মুর্শিকুল আলম:: ক্রিং, ক্রিং শব্দে এক সময় সড়ক-মহাসড়ক, অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াতো প্যাডেল চালিত রিকশা। শুধু শহরে নয়, গ্রামীন সড়কেও চলতো এ ধরনের রিকশা। প্যাডেল চালিত রিকশার চালকরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চালাতো এই রিকশা। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু আধুনিকতায় ছোঁয়ায় প্যাডেল চালিত রিকশা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এর স্থান দখল করে নিচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
জানা গেছে, প্যাডেল চালিত রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। বিপরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে চালকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অটোরিকশা। নিম্ন আয়ের মানুষেরা পেশা পরিবর্তন করে অটোরিকশা চালানোর দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া বেকার তরুণ ও যুবকরাও অটোরিকশা কিনে রাস্তায় নেমে পড়ছেন। অটোরিকশা দ্রুত চলাচল ও আরামদায়ক সিটেরও কারণে এটিকে বেছে নিচ্ছেন যাত্রীরা।
গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগে প্যাডেল চালিত রিকশা চললেও এখন শতকরা ৯৫ ভাগই অটোরিকশা চলাচল করে। দু-একটি প্যাডেলচালিত রিকশা চোখে পড়লেও যাত্রী সংখ্যা কম। যাত্রীরা এখন তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছাতে এই অটোরিকশায় বেশি চলাচল করছেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগরীর বড় দেওড়া এলাকার প্যাডেল চালিত রিকশার চালক মো: হান্নান মিয়া বলেন, গত ২০ বছর ধরে প্যাডেল চালিত রিকশা চালাই। আমার ৪ জনের সংসার এই রিকশার উপার্জনেই চলে। আগে প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ টাকা আয় হলেও এখন আর আয় তেমন হয় না। যুগ বদলেছে তাই আমাদের চাহিদা কমে গেছে। এখন দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করা কষ্ট হয়ে পড়েছে। সংসারের অবস্থা ভালো না, তাই বাধ্য হয়েই এ কাজ করছি। টাকা-পয়সা বেশি থাকলে আমিও অটোরিকশা কিনতাম।
মহানগরীর টঙ্গী বাজার এলাকার প্যাডেলচালিত রিকশার চালক মো. আলিম উদ্দিন জানান, আগে বাড়ির সামনে যাত্রীরা হেটে গিয়ে প্যাডেলরিকশায় উঠতো কিন্তু এখন যাত্রীরা আর হাঁটতে চায় না। তারা বাসা-বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অটোরিকশার জন্য। আগামীতে এই পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় যেতে হবে, নইলে সংসার চালাতে পারবো না।
এ ব্যাপারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মো: নাজিম উদ্দিন বলেন, প্যাডেলচালিত রিকশায় কষ্ট বেশি, আয় কম। গাজীপুর মহানগরীতে অটোরিকশা চালাই। দিনে ৫শ থেকে ৬শ টাকা আয় করি। এই টাকায় সংসার মোটামুটি ভালোভাবেই চলে।
অটোরিকশা চালক মো: খালেক বলেন, কিস্তি থেকে টাকা উঠিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছি। প্রতিদিন ওই রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় সেখান থেকে কিস্তির টাকা দেই। এতে আমার পরিবার মোটামোটি ভালোই চলে।
গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেসব এলাকায় প্যাডেলচালিত রিকশা তৈরি করা হতো। এখন সেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তারা অটোরিকশা তৈরি করছে। এইসব কারখানায় প্রতি মাসে ৮০ থেকে ১০০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি করা হয়। এসব কারখানার সরকারি অনুমোদন না থাকলেও তারা দেদারসে অটোরিকশা তৈরি করে তা নগদে ও কিস্তিতে চালকদের কাছে বিক্রি করছে।
কারখানার মালিকরা জানান, একটি অটোরিকশা তৈরি করতে খরচ পড়ে ৮০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ খরচ হয় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আটোরিকশা কেনেন। আমরা চালকদের কাছে এসব গাড়ি দেড় লাখ টাকার মত বিক্রি করি। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাই অটোরিকশার দামও বৃদ্ধি করতে হচ্ছে।