নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় কনফিডেন্স প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি ছাপাখানায় চলতো জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প মুদ্রণের কাজ। এরপর সেগুলো মেশিনের মাধ্যমে কেটে ও ছিদ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতো একটি চক্র। ওই চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন অনুমোদিত ভেন্ডরদের সুসম্পর্ক থাকায় তারা এসব নকল রেভিনিউ স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করতো। দুই টাকা থেকে ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প তৈরি করতো চক্রটি। এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রের সদস্যরা, সরকার হারিয়েছে রাজস্ব। এছাড়া চক্রটির কাছ থেকে আরও যেসব রেভিনিউ স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয় তাতে অন্তত ২২ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতো সরকার। গত মঙ্গলবার রাতে চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-৪ এর একটি দল। ঢাকার আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল কাজী (৩১)।
গ্রেফতার অন্যরা হলেন- মো. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাহিদ (৪০), মো সোহেল রানা (৩৫), মো. সাব্বির হোসেন (২২), সাবিনা ইয়াছমিন (৩০), শাহনাজ আক্তার (৩১), কামরুল হাসান (২৬), মো. সুমন (২২), বিল্টু (১৯) ও মো. সেন্টু মিয়া (২৫)।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৬০টি স্ট্যাম্প, ২০০ টাকা মূল্যমানের ৬২ হাজার স্ট্যাম্প, ১০০ টাকা মূল্যমানের ৯২ হাজার ২০০টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকা মূল্যমানের ৬০ হাজার ৭৬০টি স্ট্যাম্প, ২০ টাকা মূল্যমানের ৩২ হাজার ২০০টি স্ট্যাম্প, ১০ টাকা মূল্যমানের ৪ লাখ ২১ হাজার ৯০০টি স্ট্যাম্প, ৫ টাকা মূল্যমানের ৯ হাজার স্ট্যাম্প, ৪ টাকা মূল্যমানের ৩৬ হাজার ৯০০টি স্ট্যাম্প, ২ টাকা মূল্যমানের ৫ হাজার ৬০০টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পারফেক্ট মেশিন ৩টি ও স্ট্যাম্প তৈরির প্যাটেন্ট ২০টিসহ সর্বমোট ২২ কোটি এক লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যমানের ১১ লাখ এক হাজার ৪২০টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি নগদ ৩০ হাজার ৭৪৫ টাকা ও বিপুল পরিমাণ অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে র্যাব। আজ বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।