মোঃ আক্তার হোসেন ডালি, বিশেষ প্রতিনিধি:: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে একই পরিবারের সাত সদস্য একসাথে প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রগঞ্জের জগদীশপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে যায় পাশের খালে। কয়েক সেকেন্ডেই নিভে যায় একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসছিল। পরিবারটি তাদের এক প্রবাসফেরত আত্মীয়কে বরণ করে রাতভর পথ পাড়ি দিয়ে ফিরছিল নিজ ভিটেমাটিতে। কিন্তু কে জানতো, সেই আনন্দযাত্রা রূপ নেবে মৃত্যু যাত্রায়!
স্থানীয়রা জানান, গাড়িটির গতি অনেক বেশি ছিল। হঠাৎ করেই ব্রেক ফেল করে কিংবা চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে মাইক্রোবাসটি সোজা রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে যায় খালে। মুহূর্তেই থমকে যায় সবকিছু। ছুটে আসে মানুষ, শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। কিন্তু তার আগেই নিথর হয়ে যায় সাতটি প্রাণ। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধাও রয়েছেন। সবারই একটাই পরিচয়—তাঁরা একই পরিবারের। চোখের সামনে প্রিয়জনদের নিথর দেহ দেখে ভেঙে পড়েছেন বেঁচে থাকা স্বজনরা। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে জগদীশপুরের আকাশ-বাতাস।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ চালানো হয়। সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।” এদিকে, সড়কে এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না—একটি পরিবার এভাবে এক নিমিষেই বিলীন হয়ে যাবে। সমাপ্তি নয়, প্রশ্ন রেখে গেলো: এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি গোটা সমাজের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে থাকবে। কেন এত মৃত্যুর মিছিল? কোথায় আমাদের নিরাপত্তা? সড়ক কি শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ, না কি অজানা মৃত্যু ফাঁদ? এ প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে।