স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: টঙ্গীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মাহফুজ নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়। গত ৯ জুলাই রাতে আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার চারদিন পর র্যাব-১ এর সদস্যরা টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল রোববার র্যাব সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-মো. রাফসান জানি রাহাত (২৮), মো. রাশেদুল ইসলাম (২০), মো. কাওছার আহম্মেদ পলাশ (২৩) ও রাকিব ইসলাম (২৬)।
র্যাব জানায়, আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ডে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হাতেম আলী কলেজের ছাত্র মো. মাহফুজুর রহমান নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়। এরপর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহত মাহফুজের এন্ড্রয়েড ফোনটি হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২ঘণ্টা পর সনাক্ত করা যায়। ওই সূত্র ধরে র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল মোবাইলের গ্রাহককে দ্রুত সময়ে সনাক্ত করে নজরবন্দীতে আনে। এক পর্যায়ে মোবাইলের গ্রাহককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভুক্তভোগীর ফোনটি টঙ্গীর মাজার বস্তির এক চোরাই মোবাইল ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে ৩৫০০ টাকা মূল্যে ক্রয় করেছে বলে জানান। পরে মোবাইল বিক্রেতা রাকিবকে সনাক্ত করে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরো জানায়, মোবাইল বিক্রেতা রাকিব একজন মাদক কারবারি। তিনি বর্তমানে ছিনতাইকারীদের ব্যবহার করে কম মূল্যে মোবাইল সংগ্রহ করেন এবং লাভজনক মূল্যে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করেন। একই সঙ্গে ছিনতাইকারীরা তার নিকট থেকে সুইচ গিয়ার এবং অন্যান্য ধারালো সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন। অভিযানে প্রথমে কাওছার আহম্মেদ পলাশকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ছিনতাইকারী রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ছাত্র মাহফুজকে গুরুতর জখমের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেন এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ছিনতাইকারীর সন্ধান দেন। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল চালক রাহাতের সন্ধান দেন। চালক রাহাতকেও গ্রেফতার করা হয়।