July 9, 2026, 2:53 pm

টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ২০

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, June 18, 2025
  • 90 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: গাজীপুর মহানগীর টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩জন গুরুতর বলে জানা গেছে। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হচ্ছে, মো: সোহেল, আবু সাইদ ও মো: আনিস। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তারা হলেন, ফাহিম, ইয়াসিন, আসাদ, ইয়াসিন মিয়া, হানিফ, শুভ, রানা, হাসান, সবুজ, লিটন, ফেরদৌস, সজিব, আলমগীর, উজ্জ্বল রাজ ও কাউসার। বাকীদের নাম পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পিমকি অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মোটর শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা মতিউর রহমান মতির নেতৃত্বে ঝুট ব্যবসা করে আসছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরণ এই কারখানায় লিখিত চুক্তিনামা করে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির বর্তমান সভাপতি সরকার জাভেদ আহমেদ সুমনের পরিচয়ে ৪০/৫০ জন লোক এতে বাঁধা প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন সুমন সরকার। উভয় পক্ষই ঝুটের মালামাল নিতে কারখানায় গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ সবাইকে বের করে দেয়। এতে উত্তেজনা শুরু হলে এক পর্যায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝুটের মালামাল দেয়া বন্ধ করে দেন। অত:পর দুই পক্ষ কারখানার সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কারখানার সামনে গিয়ে দেখা যায়, উভয় পক্ষ কারখানার সামনে অবস্থান করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাভেদ আহমেদ সুমন সরকার বলেন, ওমর ফারকের নামে ঝুটের মালামাল নেয়ার একটি চুক্তি রয়েছে। চুক্তি থাকা সত্যেও তাকে ঝুটের মালামাল নিতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। মাল আনতে গেলে কিরণের লোকজন হামলা করে ৮/১০ জনকে মারধর করে। এতে অনেকেই হয়েছে আমার লোকজন অবশ্যই মামলা দিবে এবং আমার কর্মীরা কেউই মারামারি করেনি। কিরনের লোকজন মারামারি করেছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরণ বলেন, আমার নামে চুক্তি নামা আছে। আমি ব্যবসা করছি। কিন্তু আজ সুমন সরকারের লোকজন বাঁধা দিচ্ছেন। আমার কেউ হামলা করেনি। সুমন সরকারের অভিযোগ মিথ্যা। বরং আমার ১০/১২ জন কর্মী আহত হয়েছে এবং সুমন সরকারের লোকজন অতর্কিতভাবে আমার লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে। প্রয়োজনে আমরা মামলা করব।
এ বিষয়ে পিমকি অ্যাপারেলস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক, (জিএম) মাকসুূুদুর রহমান বলেন, অনেক ডিড হয়েছে। ৫ আগষ্টের পর রাশেদুল ইসলাম কিরণ ডিড করে ঝুটে নেন। গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) সুমন সরকারের রেফারেন্সে জনৈক ওমর ফারুক নামে এক জনের নামে নতুন করে চুক্তি করা হয়। আজ ওমর ফারুকের লোকজন মাল নিতে আসলে কিরণের পক্ষ বাঁধা দেয়। এরপর আমরা কাউকেই মাল দিচ্ছি না। এটা নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। ট
ঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, যার নামে চুক্তি সে ব্যবসা করবে। ঝুট নিয়ে ঝামেলা সহ্য করা হবে না। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। থানায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর