স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহার আগমুহূর্তে রপ্তানিমুখী জুতা উৎপাদনকারী একটি কারখানা বন্ধ রাখার প্রতিবাদসহ বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সাড়ে ছয় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। আজ শনিবার (২৪ মে) সকাল ৭টা থেকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের কপাটিয়াপাড়া এলাকায় এম কে ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার অর্ধ সহস্রাধিক শ্রমিক এ আন্দোলনে অংশ নেন। ওই সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানাটির প্রধান ফটকসহ নিরাপত্তা কক্ষ (সিকিউরিটি রুম) ভাঙচুর করেন। তারা দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা মাওনা-গাজীপুর (শৈলাট) সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মালিকপক্ষ আগামী মঙ্গলবার কারখানায় উৎপাদন চালু ও সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এক মাসের বকেয়া বেতনসহ ঈদ বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।
কারখানার কর্মীরা জানান, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কর্মকর্তারা গত ১৪ মে কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটির। ওই দিনই কারখানা কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করে। এরই মধ্যে বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে আজ কারখানায় উৎপাদন চালু হওয়ার কথা ছিল।
শ্রমিকরা জানান, সকাল ৭টার দিকে তারা কারখানায় গিয়ে প্রধান ফটকের সামনে আগামী সোমবার পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে বলে নোটিশ দেখতে পান। ওই নোটিশ দেখে সেখানে তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া লিপি আক্তার, মিনারা বেগম ও নূরুন নাহার জানান, গত এপ্রিল ও চলতি মে মাসের বেতন বকেয়া তাদের।
ঈদুল আজহাও সমাগত। কিন্তু তাদের ঈদ বোনাস দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে ১০ দিন ছুটি ঘোষণার পর ফের ছুটি বর্ধিত করায় ঈদুল আজহার আগে কারখানাটি খোলা হবে কিনা তা নিয়ে তারা সংশয়ে পড়েন। ফলে তাৎক্ষণিক তারা সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হাসান জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় অবস্থান নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তার সাড়া না পেয়ে প্রধান ফটক ভেঙে শ্রমিকরা ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নিরাপত্তা কক্ষে ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা (শ্রমিক) পাশে মাওনা-গাজীপুর (শৈলাট) সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে থানা ও শিল্পপুলিশ সেখানে পৌঁছে দেড় ঘণ্টা পর শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ফের তারা কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। পাওনা পরিশোধের দাবিতে সেখানে তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল করে। কারখানাটির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের গত এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস চলতি সপ্তাহে পরিশোধ করা হবে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ‘থানা ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে মালিকপক্ষ আগামী মঙ্গলবার কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে গত এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দেন। মালিক পক্ষের এ আশ্বাস পেয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা।’