July 4, 2026, 6:42 am

‘জুলাই বিপ্লব ইসলামপ্রিয় লেখক ও সাংবাদিকদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে’

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, February 2, 2025
  • 64 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ৫ আগস্টের ‘জুলাই বিপ্লব’ দেশের ইসলামপ্রিয় লেখক ও সাংবাদিকদের মূল্যায়নের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। আজ রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ১২তম বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিন সম্পাদককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত তিন সম্পাদক হলেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ এবং দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব।
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামানের স্বাগত বক্তৃতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ হওয়া সত্ত্বেও এ দেশের ইসলামপ্রিয় লেখক ও সাংবাদিকরা তাদের মেধার মূল্যায়ন পান না। এক্ষেত্রে ওআইসিরও কোনো ভূমিকা নেই। মুসলিম লেখকরাও পশ্চিমা বিশ্বের দেওয়া পুলিৎজার কিংবা নোবেল পুরস্কারের দিকে তাকিয়ে আছেন তাদের মেধার মূল্যায়নের জন্য। এটাই মুসলিম বিশ্বের ব্যর্থতা। এ কারণে আমাদের আবুল আসাদ ও আলমগীর মহিউদ্দীনের মতো প্রতিথযশা সাংবাদিক ও সম্পাদকরা মূল্যায়ন পান না।
তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টের পরে এই বৃত্ত ভাঙার সুযোগ তৈরি হয়েছে আমাদের জন্য। আমি মনে করি মানারাত ইউনিভার্সিটি সেই বৃত্ত ভাঙার চেষ্টা করছে আজকে সম্পাদকবৃন্দকে সংবর্ধনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
ড. মাহমুদুর রহমান ১/১১-এর সময় ভারতপন্থী ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস জানতে হলে সম্পাদকদের এই লড়াই জানতে হবে। ১/১১-এর সময় একটা ভারতের দালাল সরকার ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা ছিল যে সেই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিল। কিন্তু আমি তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে নয়া দিগন্তে সম্পাদকীয় পাতায় লিখতে শুরু করি। এজন্য নয়া দিগন্ত কর্তৃপক্ষকে ডিজিএফআইয়ের হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল। কিন্তু তারা হুমকি উপেক্ষা আমার লেখা ছাপিয়েছিল।
তিনি দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি শুধুমাত্র ইসলামপ্রিয় মানুষ হওয়ার কারণে মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাননি।
অনুষ্ঠানে দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ বলেন, আমাদের দেশে যে অসত্য বা হলুদ সাংবাদিকতার কথা বলা হয় এ জন্য দায়ী সাংবাদিকরা নন। এ জন্য দায়ী যারা সাংবাদিকদের খাটান বা আরো ওপরে আছেন তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আজকে সংবর্ধনা দেওয়া দেশের প্রতিথযশা তিন গুণী সম্পাদকের মাঝে তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এজন্য আমরা তাদের সংবর্ধনা দিতে পেরে কৃতজ্ঞ।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব সংবর্ধনাপ্রাপ্ত তিন সম্পাদককে জীবন্ত কিংবদন্তি উল্লেখ করে বলেন, তাদেরকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বা বলার নেই। তারা বাংলাদেশ তথা এশিয়ার সাংবাদিকতার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন। আগামী দিনে তারা তাদের কলমকে শানিত করে আরো উচ্চকিত কণ্ঠে জাতিকে পথ দেখাবেন আশা করছি। এর আগে তিন সম্পাদকের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানের সভাপতি। এ সময় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেক কাটেন অতিথিবৃন্দ।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের সেমিনার হলে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সেমিনার ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর