July 9, 2026, 2:46 pm

হত্যাকান্ড চালিয়ে আন্দোলন দমন করা যায় না : ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, September 8, 2024
  • 116 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য ও তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, যত দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন ততই নিরাপদ। একটি যৌক্তিক সময়ে আমরা নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। কারা ক্ষমতায় আসবেন, কারা দেশ পরিচালনা করবেন জনগণই তা নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চেয়েছিল গণহত্যা চালিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে। হত্যাকান্ড চালিয়ে আন্দোলন দমন করা যায় না। ফ্যাসিবাদী করে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।
তিনি আরও বলেন, সাহস করে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে আন্দোলন সংগ্রামে জয়ী হওয়া যায় না। ছাত্র-জনতা এবার সাহস করে দাঁড়িয়েছে, তাই স্বাধীনতা এসেছে। প্রতিটি নেতার মাঝে আদর্শ, নেতৃত্ব, জনবান্ধব, সততা, দুঃসাহসের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো থাকতে হবে। সাহসহীন নেতৃত্ব জাতির জন্য বোঝা স্বরুপ। শনিবার দুপুরে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের মাঝে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কুরবান আলী, মহানগর জামায়াতের আমীর ও তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা তদারকী কমিটির সদস্য অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, মহানগর জামায়াত নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক, ড. মোয়াজ্জেম হোসেন আযহারী, টাকসু ভিপি আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, শিক্ষার্থী ওমর মজুমদার ও তানজিদ বিন মোবাশ্বের প্রমুখ।
সাম্প্রতিক সময়ে আমিরে জামায়াতের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সকলকে পজেটিভ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন হয়েছে, যাদের স্বজনরা খুন হয়েছেন, গুম হয়েছেন তারা ক্ষমা না করলে ক্ষমা করার অধিকার কারোর নেই। ইসলামের দৃষ্টিতেও মজলুম ক্ষমা না করলে কোন জালিমকে ক্ষমা করার অধিকার কারোর নেই। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহও ক্ষমা করবেন না। যারা জালেম, লুটেরা, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, যারা অবৈধ শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দায়ী তাদেরকে কঠিন বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৪১ সালে আমরা প্রথম স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এর পর বাহাত্তর সালে দ্বিতীয় এবং চব্বিশ সালে আমরা তৃতীয় বার স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এবারের স্বাধীনতা ছিল একটু ভিন্ন রকমের। শিশু ও নারী থেকে শুরু করে সকল বয়স ও শ্রেণির মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সন্তান যখন বেরিয়ে এসেছে তখন মা-বাবারাও তাদের পেছনে রাস্তায় ছুটে এসেছেন। তিনি বলেন, সর্বমহলের অংশগ্রহণে এটি সত্যিকার অথের্ই একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সকল মানুষের অংশগ্রহনে একটি গণযুদ্ধ, জনযুদ্ধ হয়েছে। আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে যখন গোল-বোমা নিপেক্ষ করেছিল তখন মনে হয়েছিল ভিন দেশের সাথে আমাদের যুদ্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, এখনো একধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই অস্থিরতা দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিজয়ের সুফল আমরা তখনই পাব, যখন জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারবো।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর