July 9, 2026, 3:09 pm

সমুদ্রপথে গোপনে ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক দিচ্ছে ভারত, নথি ফাঁস

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, June 26, 2024
  • 109 জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইসরায়েলের কাছে গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকদ্রব্য রপ্তানি করেছে ভারত, এ সংক্রান্ত নথি হাতে পেয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ যখন ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তখনই ভারতের এই অস্ত্র রপ্তানির কথা ফাঁস হলো।
নথির বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল ভারতের চেন্নাই থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে ‘বোরকাম’ নামে একটি জাহাজ ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। তবে ইয়েমেনের সশত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলা এড়ানোর জন্য লোহিত সাগর দিয়ে না গিয়ে জাহাজটি আফ্রিকা ঘুরে ইসরায়েলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পথে স্পেনে যাত্রাবিরতি করার চেষ্টা করলে স্প্যানিশ সরকার তাতে রাজি হয়নি। ওই জাহাজের বিষয়ে স্পেনের বামপন্থি সংগঠনগুলো প্রতিবাদ গড়ে তোলে। আল জাজিরার হাতে আসা নথি অনুসারে, জাহাজটি গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সলিডারিটি নেটওয়ার্ক (রেসকপ) বলছে, বোরকাম জাহাজটি ২০ টন রকেট ইঞ্জিন, বিস্ফোরক চার্জসহ সাড়ে ১২ টন রকেট, ১ হাজার ৫০০ কেজি বিস্ফোরক এবং কামানের জন্য ৭৫০ কেজি চার্জ এবং রকেট প্রোপেল্যান্ট বহন করছিল।
এছাড়াও ভারতের আরেকটি কার্গো জাহাজ গত ২১ মে স্পেনের কার্টেজেনা বন্দরে প্রবেশ করতে চাইলে অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইস জানিয়েছে, ‘মারিয়েন ড্যানিকা’ নামে জাহাজটি ভারতের চেন্নাই বন্দর থেকে রওনা হয়েছিল এবং ২৭ টন বিস্ফোরক নিয়ে ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন, জাহাজটি ইসরায়েলের জন্য সামরিক পণ্য বহন করছিল বলেই বন্দরে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে গত ৬ জুন গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশের ভিডিও প্রকাশ করে কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক। এতে একটি লেবেলে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল- ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর একজন গবেষক জাইন হুসেন আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সহযোগিতা এখন বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে, তাই এটা অসম্ভাব্য নয় যে আমরা দেখতে পারি যে ভারতে তৈরি কিছু উপাদান ইসরায়েল গাজার যুদ্ধে ব্যবহার করছে।’
সিপ্রি’র তথ্য অনুসারে, ভারতীয় কোম্পানি প্রিমিয়ার এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড এমআরএসএএম এবং এলআরএসএএম ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য কঠিন প্রপেলান্ট তৈরি করে– রকেট মোটরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, কিন্তু পুরো মোটর নয়। যা ইসরায়েলের ডিজাইন করা বারাক মাঝারি এবং দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলগুলোর ভারতীয় ভার্সন। কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক টি চৌধুরী গত ৩১ মার্চ একটি কনফারেন্স কলের সময় গাজার বর্তমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলে রপ্তানি করার কথা স্বীকার করেছেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি প্রিমিয়ার এক্সপ্লোসিভস লিমিটেডকে ‘একমাত্র ভারতীয় কোম্পানি যা সম্পূর্ণরূপে একত্রিত রকেট মোটর রপ্তানিতে বিশেষজ্ঞ’ হিসাবে উপস্থাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, কোম্পানিটি মাইন, গোলাবারুদ, আরডিএক্স (বিস্ফোরক) তৈরি এবং রপ্তানি শুরু করেছে। আল জাজিরা বলছে, ভারতের এসব কার্যক্রম এটাই প্রমাণ করছে, নয়া দিল্লি একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছে এবং সংলাপকেই প্রাধান্য দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানি করছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতিসংঘে দেশটির কূটনীতিকরা ও ভারতীয় কর্মকর্তারা লাগাতার বলে আসছেন যে, যুদ্ধ নয়, দ্বন্দ্ব সমাধানের একমাত্র উপায় হিসেবে দেশটি সংলাপ এবং আলোচনায় বিশ্বাস করে।
এ বিষয়ে ‘দ্য ইভোলিউশন অব ইন্ডিয়াস ইসরায়েল পলিসি’র লেখক নিকোলাস ব্লারেল আল জাজিরাকে বলেন, ভারত তার অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এ নিয়ে আল জাজিরা গত ১৭ এবং ২১ জুন ভারতের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। কিন্তু নিরপেক্ষ এবং আরবপন্থি নীতির কারণে ৪২ বছর পর ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
অন্যদিকে ১৯৭৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণকারী প্রথম অ-আরব দেশ হয়ে ওঠে ভারত। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় দেশটি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর