দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে ড. বেনজীরের যে ভূমিকা ছিল সেটি শুধু সরকারের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করেনি, গোটা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করেছে। আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যেসব বাহিনী রয়েছে তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের জনগণ আজ উপলব্ধি করতে পারছে যে বেনজীরের মতো কয়েকজন যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধারের দায়িত্ব পালন করছেন তাদের অপকর্মের কারণে আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। এর আগে সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক এলাকা পরিদর্শন ও ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আজকের দিনে এসে মনে হয় বেনজীর ও জেনারেল আজিজের মতো লোকের কারণেই হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় হয়তো আমরা বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারিনি বলেই অনেক সময় মনে করেছি, একটি রাজনৈতিক কারণে, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’
রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, ‘পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে বেনজীর আহমেদ যে অন্যায়, অবিচার ও কুকর্মগুলো করেছেন এবং যেটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়গুলো জানার পরে আমরাও ভাবলাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ আমরা সেখানে যাই এবং পুরো বিষয়টা দেখি। আমাদের তথ্য অনুসন্ধানের যে কমিটি হয়েছে, এই কমিটি ইতিমধ্যে রিপোর্ট নেওয়া শুরু করেছে। রিপোর্টগুলো পাওয়ার পরে জাতীয় পর্যায়ে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের সামনে বিষয়টিকে উত্থাপন করা হবে। সাংবাদিক বন্ধুরা আপনারা যে বিশাল কাজটি করছেন আমরা আপনাদের সহযোগিতা ও সহায়তা করতে চাই।’
সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল আজিজের কথা উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘যদিও জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের জায়গা-জমি দখল বা বেদখলের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমাদের জানা নেই। কিন্তু র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে বেনজীর যে ভূমিকাটা পালন করছেন, এটা শুধু সরকারের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করে নাই, এটা গোটা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। আমাদের যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘এই এলাকাটি শতভাগ হিন্দু প্রধান এলাকা। যাদের শত শত বিঘা জমি জোর করে, হুমকি দিয়ে, নানা চক্রান্তমূলকভাবে বেনজীর দখল করে নিয়েছে। শুধু দখলই করে নাই, আমরা লক্ষ্য করেছি, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এমনভাবে চারদিকে বেষ্টনী করা হয়েছে, যাতে অন্য কেউ ওই জায়গায় প্রবেশ করতে না পারে। ওই দিকে (পার্কের ভেতরে) এলাকার সংখ্যালঘুদের জায়গা জমি আছে, ওগুলো তারা আর দেখাশোনা করতে পারছে না। অথচ, এখানকার লোকজনের প্রধান জীবিকার উৎস কৃষি। আজকে এই জীবিকার উৎস থেকে তারা বঞ্চিত হওয়ার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি বিশাল অর্থনৈতিক সংকট নেমে এসেছে। আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এলাকাটি আপনারই। আপনি একবার এলাকায় আসুন, আপনি দেখে যান, কীভাবে এখানকার সংখ্যালঘুদের জায়গা জমি জবর দখল করেছেন বেনজীর আহমেদ। আমরা দাবি, জানাই এবং আবেদনও জানাই, যাদের সম্পত্তিগুলো দখল করা হয়েছে, তাদের সম্পত্তিগুলো তাদের ফেরত দেওয়া হোক। এখন এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে বলতে চাই, এই এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও আসুক, জনগণ জানতে চায় তাদের এ অবস্থা কেন হলো।’
আজিজ ও বেনজীর আওয়ামী লীগের কেউ নন, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বেনজীর ও আজিজ যা করেছেন সেটা ওনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে রাষ্ট্রের কোনো বিষয় না। এ বিষয়গুলোকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে চেপে রাখার কোনো বাস্তবতা নাই। অতএব আজকে তাঁদেরও উচিত, তাঁরা বলুক এই মামলা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কী করে তাঁরা এ দেশ থেকে চলে গেলেন এবং বিচার এড়ানোর তাঁরা চেষ্টা করছেন।’
এ সময় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল ও মনিন্দ্র কুমার নাথ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, সহসভাপতি শিপ্রা বিশ্বাস, সদস্য ডেভিড বৈদ্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।