নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাক্রমে মূল শিক্ষাকে গণশিক্ষার স্তরে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকুচিত করা হয়েছে। এই শিক্ষানীতি থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ভারত এই সরকারের ঘাড়ে পা দিয়ে আমাদের শিক্ষানীতি দখল করেছে। আজ শনিবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্তমান শিক্ষানীতি, নতুন শিক্ষাক্রম ও জাতির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিরে খেলাফত আরও বলেন, আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা নষ্ট করা হয়েছে। অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামর্থ্যবানদের অনেকে আজ ইংরেজি মাধ্যমে তাদের সন্তানদেরকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। পরীক্ষা না থাকাতে শিক্ষার্থীরা বাসায় পড়াশোনা করে না। মা—বাবার কথা শুনে না। ট্রান্সজেন্ডার ও অবাধ মেলামেশার সংস্কৃতি আমদানি করে মূল্যবোধের ধ্বস নামানো হচ্ছে। আধুনিকতার নামে নৈতিকতা বিসর্জন দেয়ার এ শিক্ষ্যাব্যবস্থা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশে অনেকগুলো শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লে করে তিনি বলেন, সেক্যুলার ও নাস্তিকদের হাতে রচিত এসব শিক্ষাক্রমে কোনো ইসলামী বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ ছিলেন না। বর্তমান শিক্ষাক্রম রচনায় ইসলামী শিক্ষাবিদসহ কোনো অংশীজনের সাথে মতবিনিময় করা হয়নি। ভুলত্রুটি পর্যালোচনা না করে বই ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল পাঠ্যক্রম তুলে দেওয়া হয়েছে। একদিকে যেমন দেশের আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে অন্যদিকে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করা হচ্ছে। তাই এই শিক্ষাক্রম বাতিল করতে হবে। নতুনভাবে শিক্ষাক্রম প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও আলেমদেরকে অন্তভুর্ক্ত করতে হবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকারের আদর্শ যা, শিক্ষা ব্যবস্থায় তাই প্রতিফলিত হয়েছে। যে সরকার অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় আরোহন করেছে তারা কীভাবে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে পারে! তাই দলমত নির্বিশেষে সকলকে মাঠে নামতে হবে। এই শিক্ষাক্রম বাতিলে শিক্ষাবিদ, ছাত্রসমাজ ও অভিভাবকদের জাগতে হবে। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ইসলামের আলোকে বিজ্ঞানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার আন্দোলন বেগবান করতে হবে।
খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম।
ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকারের পরিচালনায় সেমিনারে লিখিত প্রবন্ধের উপর আলোচনা পেশ করেন ঢাকা সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক খালেকুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট একেএম বদরুদ্দোজা, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা জিয়াউল হক শামীম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের নায়েবে আমীর এরশাদুল বারি, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন মহাসচিব অধ্যাপক মোস্তফা তারিকুল হাসান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল জলিল, মালিবাগ জামিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুস সালাম, মুফতি জাফর আহমদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিলাল আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আবদুল হক আমিনী, হাফেজ মাওলানা নুরুল হক, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, আমির আলী হাওলাদার প্রমুখ।