নিজস্ব প্রতিবেদক :: গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা ফরিদ সরকার হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও দুইজন আসামি ছাড়া বাকি চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে নিহতের বড় ভাই ও পরিবাবের সদস্যরা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়নপুর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
ফরিদ সরকার শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। ফরিদ গোসিংগা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত ফরিদ সরকারের একমাত্র মেয়ে ফাহিমা আক্তার (৯) বলেন, ‘সবাই সবার বাবাকে ডাকতে পারে। কিন্তু আমি আমার বাবাকে ডাকতে পারি না। এক মাস হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো আমার বাবার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারে নাই। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।’
নিহত ফরিদ সরকারের বড় ভাই ফারুক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর ভোর পৌণে ৪ টায় আসামিরা ফরিদকে মুঠোফোনে স্থানীয় কেবিএম ব্রিকসে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে প্রধান আসামি কাপাসিয়া উপজেলার সূর্য নারায়নপুর (ভুবনেরচালা) গ্রামের তারা ডাকাতসহ তার সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট এবং কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তিনি (নিহতের বড় ভাই ফারুক হোসেন) শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি তারা ডাকাত এবং ৬ নম্বর আসামি টিটুকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার ভাই ফরিদ সরকার স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার খোরশেদ আলম রফিকের কাছে মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের নাম বলে গেছে। ওই মেম্বার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে স্বীকারোক্তি দিলেও পুলিশ অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাদেরকে গ্রেপ্তার না করায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সহযোগীতা আশা করছি। মামলার অপর আসামিরা হলেন শ্রীপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, একই গ্রামের আব্দুল হালিম, মোতাহার হোসেন মাস্টার এবং হৃদয় হাসান জয়। তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই আমরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সবুজ বলেন, ‘আজকে যদি ফরিদ হত্যার সঠিক বিচার না হয় তাহলে আগামী দিনে এই ধরনের অপরাধের প্রবণতা আরো বাড়বে। আমরা জনগণকে কিভাবে নিরাপত্তা দিব। সামাজিক ন্যায়বিচার কিভাবে নিশ্চিত করব। চিহ্নিত একটা অপরাধী চক্রের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে রয়েছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানায়, ‘ইতোমধ্যে আমরা প্রধান আসামিসহ অপর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামী কারাগারে রয়েছে। ফরিদ হত্যার তদন্ত চলমান রয়েছে। দুইজন আসামি সন্দেহের মধ্যে রয়েছে, অতি দ্রুত আমরা ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারব।’