নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দাম্ভিকতা প্রকাশ করছেন এতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-সম্পদ বিলীন হয়ে যেতে পারে। আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতাদের ফরমায়েসী রায় বাতিল ও সব রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ)।
অবস্থান কর্মসূচিতে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, বাংলাদেশ আজকে ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। বাংলাদেশকে পৃথিবীর সব বড় ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর শত্রুতে পরিণত করেছেন। সাদ্দাম হোসেনও শেখ হাসিনা মতো এভাবে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছিলেন। সেই খেসারত ইরাকের মানুষকে দিতে হয়েছে। সেখানে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। এখনও ইরাকের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায়নি।
তিনি বলেন, আসাদ একসময় দাম্ভিকতা দেখিয়ে ছিলেন। সিরিয়ার অবস্থা কি হয়েছে আপনারা জানেন। গাদ্দাফি দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছিলেন, লিবিয়ার অবস্থা কি হয়েছে আপনারা জানেন। শেখ হাসিনা এখন যে দাম্ভিকতা প্রকাশ করছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলছেন, বাংলাদেশে ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। আমাদের সম্পদ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করছি এক দফার দাবিতে। সেই এক দফা হলো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না । একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। এই দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করছি। এই দাবির দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে। সে কারণে বিএনপির জনসমাবেশে সারাদেশে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, এত লোক কোথায় থেকে আসে। বিএনপির টাকার উৎস নাকি তিনি খুঁজে দেখবেন। আমরা বলতে চাই, সবাই নিজের টাকা দিয়ে, অনেকে ধান, চাল, পাট বেঁচে, বউয়ের গয়না বেঁচে এই সমাবেশে আসে। আপনার মতো লুটের টাকা বিএনপির কাছে নেই। দেশের সব মানুষ নিজের অর্থ দিয়ে আজকে আপনার পদত্যাগ চায়। শেখ হাসিনা যদি দেশের মানুষের ভালো চান, ১৮ কোটি মানুষের যদি নিরাপত্তা চান, তাহলে আপনি পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে একটি বৈধ ভোটের ব্যবস্থা করেন। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, সেই ব্যবস্থা করেন।আজকে দেশে আওয়ামী লীগ থেকে যে মনোনয়ন পায়, সেই নির্বাচিত হয়ে যায়। তাই আজকে আওয়ামী লীগের নেতাদের দেখবেন সব উপজেলায় প্রতিদিন দুইজন তিনজন করে মারা যাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করে নৌকা পেলেই জিতে যাবে। প্রশাসন, পুলিশ ভাইয়েরা তাদের রাতের বেলা ব্যালট বাক্স ভরে দেবে, আর তারা নির্বাচিত হয়ে যাবে। এই খায়েশ আর পূরণ হবে না। দেশে আর ২০১৪, ২০১৮ সাল ফিরে আসবে না। ২০২৩ সালে ফয়সালা হয়ে যাবে, বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে ভোট দেবে, কীভাবে রাষ্ট্র রক্ষা করবে, কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করবে।
জিসপের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।