স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দায়িত্বশীলদের আদর্শিক মান, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমেই একটি সংগঠন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাই দায়িত্বশীলদের কাঙ্ক্ষিত মেজাজ, আত্মশুদ্ধি, জবাবদিহিতা ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরাই সংগঠনের নিউক্লিয়াস বা প্রাণশক্তি। তাদের প্রতিটি কাজ ও আচরণ সংগঠনের আদর্শের প্রতিফলন ঘটায়। তাই ব্যক্তিগতভাবে আখিরাতের সফলতা অর্জনের পাশাপাশি দলগতভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়, ইনসাফ এবং আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই দায়িত্বশীলদের প্রধান কর্তব্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারিদের গাজীপুরের সফিপুর এলাকায় তিন দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী দিনে শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে শুধু ব্যক্তিগত জীবনযাপনের জন্য সৃষ্টি করেননি, মানবতার কল্যাণে কাজ করা, তাঁর ইবাদত করা এবং পৃথিবীতে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করাই মানুষের প্রকৃত উদ্দেশ্য। এই মহান দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য আদর্শভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলে একামাতে দ্বীনের আন্দোলন পরিচালনা করতে হবে।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু ব্যক্তি গঠনই যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারও অপরিহার্য। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটে সমর্থিত জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতিকে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংঘাত বা রাজপথে ঠেলে না দিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ, দলীয়করণ ও ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতার পরিবর্তে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকতে হবে।অতীতের দায়িত্বশীলরা ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ বাস্তবায়নে অসংখ্য ত্যাগ ও কোরবানি করেছেন। অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আদর্শ অনুসরণ করে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ এইচ এম আব্দুল হালিম এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী, গাজীপুর জেলা জামাতের আমির ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম। বক্তারা দায়িত্বশীলদের ইসলামী আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।