June 5, 2026, 11:11 am

রংপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে জয় দিয়ে ঘরের মাঠে শেষ করল সিলেট

Reporter Name
  • আপডেট Monday, January 12, 2026
  • 125 জন দেখেছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক :: ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটা শুরু থেকেই নিজেদের হাতে রেখেছিল সিলেট টাইটানস। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বোলাররাই। নাসুম আহমেদের আঁটসাঁট স্পেল, শহিদুল ইসলামের আক্রমণাত্মক পেস আর মঈন আলির কিপটে বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে বড় স্কোর গড়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। এরপর ব্যাট হাতে পারভেজ হোসেন ইমনের দায়িত্বশীল ফিফটিতে সহজ জয় তুলে নেয় সিলেট।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুরকে ৬ উইকেটে হারায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল সিলেট। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.১ ওভারে মাত্র ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় রংপুর। জবাবে ১৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে সিলেট। দুই দলের প্রথম দেখায় একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রংপুর, এবার তারই জবাব দিল স্বাগতিক সিলেট। আর জয় দিয়ে ঘরের মাঠে শেষ করল স্বাগতিকরা।
কদিন আগেই রেকর্ড গড়া নাসুম এদিন শুরুতেই রংপুর শিবিরে বড় ধাক্কা দেন। কাইল মেয়ার্সকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে সুর বেঁধে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। শেষ দিকে আরও দুটি উইকেট শিকার করার পাশাপাশি টানা চাপ সৃষ্টি করে রংপুরের রান তোলার গতি থামিয়ে রাখেন তিনি। অন্য প্রান্তে শহিদুল ইসলাম কিছুটা খরুচে হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আঘাত হানেন। জাতীয় দলের দুই তারকা তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাসকে ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন এই পেসার। পরে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকেও সাজঘরের পথ দেখান তিনি।
মঈন আলীও ছিলেন সমান কার্যকর। কিপটে বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটার ইফতেখার আহমেদকে ফিরিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার। শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমানের উইকেটও তুলে নিয়ে রংপুরের ইনিংসে পেরেক ঠুকে দেন তিনি। সব মিলিয়ে স্বস্তির কোনো সুযোগই পায়নি রংপুর।
খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা দলকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে পারেনি। খুশদিল ৩০ রান করে রানআউট হন, মাহমুদউল্লাহ করেন ২৯। এছাড়া দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন কেবল লিটন দাস (২২) ও ইফতেখার আহমেদ (১৭)। সিলেটের হয়ে ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। শহিদুল ইসলামও নেন ৩টি উইকেট। আর মাত্র ৮ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন মঈন আলী।
লক্ষ্য তাড়ায় তৌফিক খান ও পারভেজ হোসেন ইমনের ওপেনিং জুটিতেই জয়ের ভিত গড়ে দেয় সিলেট। দুজনে মিলে যোগ করেন ৫৪ রান। তৌফিক ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন ইমন। দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৪১ বলে অপরাজিত ৫২ রান করেন তিনি। তৌফিকের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। রংপুরের হয়ে নাহিদ রানা নেন দুটি উইকেট।
বিশেষ করে রান তাড়ায় সিলেটকে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতেই কাজ অর্ধেক সেরে ফেলেন তৌফিক খান তুষার ও পারভেজ হোসেন ইমন।স্থানীয় দর্শকদের মাকিয়ে চার ছক্কায় ২২ বলে ৩৩ রান করে আউট হয়ে যান তৌফিক। তিনে নামা আরিফুল ২১ রান করতে বল খেলেন ২৬টি। কিন্তু তার ইনিংসে ছিল চোখধাঁধানো কয়েকটি শট।
পারভেজ আর আফিফ হোসেন মিলেই খেলা শেষ করবেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু জয়ের একদম কাছে গিয়ে নাহিদ রানার বলে সীমানায় ধরা পড়েনে আফিফ। পরের বলে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান ইখান ব্রুকস। পারভেজ দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন। ছক্কায় দলকে জেতানোর পাশাপাশি পূর্ণ হয় তার ফিফটি। ম্যাচ শেষে গোটা মাঠ ঘুরে গ্যালারির দর্শকদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানায় গোটা সিলেট দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর রাইডার্স: ১৯.১ ওভারে ১১৪ (হৃদয় ৪, মেয়ার্স ০, লিটন ২২, ইফতিখার ১৭, খুশদিল ৩০, সোহান ৯, মাহমুদউল্লাহ ২৯, নাঈম ২, মুকিম ০, মুস্তাফিজ ০, নাহিদ ০*; মইন ২/৮, নাসুম ৩/১৯, শহিদুল ৩/৩৬, রুয়েল০/১২, মিরাজ ০/১৫, ইরশাদ ১/২৪)।
সিলেট টাইটান্স : ১৭.৩ ওভারে ১১৯/৪ (তৌফিক ৩৩ , পারভেজ ৫২*, আরিফুল ২১, আফিফ ১২, ব্রুকস ০, মইন ০*; নাঈম ১/২৩, মুস্তাফিজ ১/২৮, খুশদিল ০/১১, মুকিম ১/১১, নাহিদ ২/১৮, ইফতিখার ০/২৮)।

ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ উইকেটে জয়ী।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর