নিজস্ব প্রতিবেদক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বজায় রাখতে না পারায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১৯ মিনিট পর নথিপত্র জমা দেওয়ায় কমিশন এ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনানুযায়ী, কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার পর ৩ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন।
আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তবে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র নিয়ে কমিশনে পৌঁছান বিকাল ৪টা ১৯ মিনিটে। বিধি অনুযায়ী সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আবেদন গ্রহণ করার সুযোগ না থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন।
এদিকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছে ইসি। তাকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াত জোটের অন্য ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইসি। দুদিনব্যাপী মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমের প্রথম দিনে আজ জামায়াত জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জোট মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। মনিরা শারমিন ছাড়াও এনসিপির নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকেও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জোট।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তিনি প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন। মনিরা শারমিনের ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরি করার তথ্য রয়েছে।