নিজস্ব প্রতিবেদক :: আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে আইনটি পাস করা হবে। আজ মঙ্গলবার নিজ নির্বাচনী এলাকা আখাউড়ার অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক পৌর মুক্তমঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো প্রতিহিংসার জন্য নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করব না, বাঙালি ও নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্যই এ কমিশন গঠন করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের দেশে ফেরত এনে বিচারের রায় পরিপূর্ণ কার্যকর না করা যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ফেরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই জন খুনির মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রে আর আরেকজন কানাডায় অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যিনি আছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জোর আলোচনা চলছে। তবে কানাডার আইনে আছে- সে দেশে অবস্থানকারী কোনো আসামির অন্য দেশে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থাকলে তাকে দেশটি থেকে ফেরত পাঠানো হয় না।
তিনি আরও বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে হত্যা করা। ষড়যন্ত্রকারী-খুনিরা জানত বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে বাংলাদেশকে হত্যা করা যাবে। মন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে চায়নি, একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশে না থাকলে তাদের আমরা জীবিত পেতাম না। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব শহীদের স্মরণে স্থানীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আইনমন্ত্রী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। এর আগে আইনমন্ত্রী রেলপথে ঢাকা থেকে আখাউড়ায় আসেন। পরে সড়কে পথে কসবায় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।