June 1, 2026, 12:35 pm

নির্বাচনের সাত মাস আগে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমেরিকানরা বুঝিয়েছে ‘বাপু ভাল হয়ে যাও’

নিজস্ব প্রতিবেদক,ময়মনসিংহ ::
  • আপডেট Sunday, May 28, 2023
  • 147 জন দেখেছে

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা সাধারণত নির্বাচনের পরে আসে। ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করার পরে যারা চুরির কাজে জড়িত তাদের ওপর আমেরিকানরা নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের সাত মাস আগেই এটা দিয়ে দিয়েছে। কারণ বাংলাদেশে প্রতিদিন ভোট চুরি হচ্ছে। সমাবেশে আসার পথে বাধা দেওয়া, বাস থেকে লোক নামিয়ে দেওয়া, সভা-সমাবেশে করতে না দেওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার, গুলি করে হত্যা, এগুলো সবই ভোট চুরির অংশ। সাত মাস আগে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বুঝিয়েছে ‘বাপু ভাল হয়ে যাও’। তাদেরকে বার্তা দিয়েছে যে ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।’ তারা যদি এই বার্তা গ্রহণ না করে তাহলে পরবর্তী চপেটাঘাত কবে আসবে আমি জানি না।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে বোরবার (২৮ মে) বিকেলে ময়মনসিংহে বিএনপির জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর মাসকান্দা এলাকার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী বা অন্য যে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে আপনারা ছবি তুলে রাখবেন। ব্যক্তির নাম লিখে রাখবেন এবং তারা কি অন্যায় করছে তার প্রমাণ রাখবেন। তারপর আমাদের জানাবেন আমরা ব্যবস্থা করব।

তিনি বলেন, যারা যারা আগামী দিনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এমন সভা-সমাবেশকে বাধা দেবে, গ্রেপ্তার করবে, বাক স্বাধীনতায় বাধা দেবে, অবৈধভাবে মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর করবে, ভয় দেখাবে, সমাবেশে আসার পথে যারা বাস থেকে নামাবে, মিছিলে বাধা দেবে, সভা-সমাবেশে বাধা দেবে তাদের ছবি তুলে রাখবেন, নামের তালিকা করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। দেশেও হবে, বিদেশেও হবে। শুধু যে আমেরিকা ব্যবস্থা নেবে তা না, আমরাও ব্যবস্থা নেব। আমরাও তাদের ওপর স্যাংশন দেব। এদের ছবিগুলো ফেসবুকে দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

আমির খসরু আরও বলেন, মানুষ আজ মানবাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, জীবনের নিরাপত্তা, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে নেমেছে। এই আন্দোলন বিএনপির একার নয়। এই আন্দোলন বাংলাদেশের সবার আন্দোলন। এখন এটি আন্তর্জাতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সমস্যা আন্তর্জাতিকীকরণ হয়ে গেছে। পুরো বিশ্ব আজ বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। 

তিনি বলেন, আমার অনেক আস্থা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর। জীবন দিয়েছে, পরিবার, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা শেষ হয়ে গেছে, পঙ্গু হয়েছে কিন্তু কেউ থামেনি। ওরা যত জুলুম-নির্যাতন-গ্রেপ্তার করবে বিএনপি তত শক্তিশালী হবে। আরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামবে।  এর আগে দুপুর ৩টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের আরোগ্য কামনা করে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু হয়। মোনাজাতের আগে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে থাকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলার ১৩টি উপজেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা ও সমর্থকরা এ জনসমাবেশে অংশ নেন। 

এ জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন, শরীফুল আলম প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর