স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী:: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে শতাধিক ঘরে মাদক কারবার হয়। এসব ঘরে রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গপথ। এসব পথ দিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। এসব ঘর উচ্ছেদ করে মাদকমুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অভিযান শেষে রাত পৌনে ১১টায় টানা ৮ ঘণ্টা টঙ্গীর তুরাগ নদী ও নদীর তীরে অবস্থিত হাজী মাজার বস্তিতে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এসব কথা বলেন তিনি।
বেলায়েত হোসেন জানান, আমাদের অপারেশন রিভার ব্যাংক-১ সমাপ্ত হয়েছে। এ অভিযানে ২৯ আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে মাদকসেবী ও মাদক কারবারি রয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে যার যতটুকু অপরাধ, তার বিরুদ্ধে ততটুকু পরিমাণ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অভিযানে অসংখ্য সুড়ঙ্গ পথ পাওয়া গেছে। সব সুড়ঙ্গ পথ ভেঙে দেওয়া হবে। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে মাদক বস্তি ভেঙে দিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।
পুলিশ জানায়, ঢাকার উত্তরা ও টঙ্গীর মাঝে তুরাগ নদীতে নৌকায় করে মাদকের কারবার হয় মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থল এলাকার সংশ্লিষ্ট ডিএমপি, জিএমপি ও নৌ পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে তুরাগ নদীর পাড়ে পিংকি গার্মেন্টসের পেছনে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ মাদক বিক্রেতা ও মাদকাসক্ত ২৯ জন আটক করা হয়। এ সময় নদীর তীর দিয়ে পালিয়ে গেছে অনেক আসামি। পালানো আসামিদের পিছু নিয়ে পুলিশ হাজী মাজার বস্তিতে নতুন সুড়ঙ্গ পেয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরো আসামি থাকতে পারে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের দিকনির্দেশে মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এ যৌথ অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া জিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার, (ক্রাইম দক্ষিণ) শফিকুল ইসলাম, ডিএমপি পুলিশের পক্ষে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তরা জোন এবং নৌ-পুলিশের পক্ষে নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঢাকা রিজিওন) এ অভিযানে অংশ নেন।
এর আগে টঙ্গীতে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে হাজী মাজার বস্তি থেকে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সে সময় পুলিশ একটি বিলাসবহুল শীততাপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ খুঁজে পায়, যার একটি সুরক্ষিত সুড়ঙ্গপথ রয়েছে।
সোমবার (৪ মে) টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩১ জন ও অন্যান্য অপরাধে আরো ৬ জনকেসহ মোট ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সে সময় জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেছিলেন, ‘টঙ্গীতে মাদক নির্মূলে অভিযান চলছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। মাদক বিক্রি ও সেবনের ক্ষেত্রে যাকে পাওয়া যাবে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে, কোনো দলীয় বিবেচনা করার সুযোগ নেই।