নিজস্ব প্রতিবেদক:: দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার জন্য চীনের চূড়ান্ত সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ইতোমধ্যে বেইজিংয়ে পাঠানো হয়েছে এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনাও শেষ হয়েছে।
সোমবার সকালে কাউনিয়ায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে চীনা সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল এই মহাপরিকল্পনার কারিগরি, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চীন চূড়ান্ত সম্মতি দিলে দেশের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি প্রকৌশল প্রকল্প নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং নদীভাঙন রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে চীনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বেইজিং থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ামাত্রই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার সব প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন জানান, তিনি শিগগিরই তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং চীন এই প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুততম সময়ে শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।