April 20, 2026, 10:28 pm

গাজীপুরের শ্রীপুরে কাঁঠালের বিচি বিক্রি করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, July 12, 2025
  • 94 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম:: বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল।  এই ফলের প্রায় সবই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে কাঁঠালের বিচি অনেকের কাছেই পছন্দের। এর পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা শরীরের শক্তি জোগায়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, অন্ত্র ও পেশির সুস্থতায় সহায়ক। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কয়েকজন উদ্যোক্তা কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। উদ্যোক্তাদের একজন কাঁচামাল ও মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী আইনুল হক। তার সঙ্গে রয়েছেন গাজী মাহমুদসহ আটজন। দলবদ্ধভাবে তারা কাঁঠালের বিচির ব্যবসা করছেন। বিষয়টি এলাকায় অনেকের নজর কেড়েছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর উন্নত মানের বিচিগুলো আলাদা করে পুনরায় ধোয়া হয়। পরে রোদে শুকিয়ে বিচিগুলো বস্তায় ভরে বাজারজাত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে শ্রীপুর অঞ্চলে কাঁঠালের বিচির তেমন গুরুত্ব ছিল না। অনেকে বিভিন্নভাবে খেতেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই ফেলে দিতেন। বর্তমানে কাঁঠালের বিচির ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় অনেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করছেন এবং বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। স্থানীয় এক নারী বলেন,  আগে কাঁঠাল খেয়ে বিচিগুলো ফেলে দিতাম। এখন এগুলো বিক্রি করে প্রতিদিন কিছু না কিছু টাকা আয় করতে পারছি।
উদ্যোক্তা আইনুল হক বলেন, আমরা আটজন মিলে এই ব্যবসা পরিচালনা করছি। বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিচি সংগ্রহ করার  জন্য কয়েকজন কর্মী রেখেছি। প্রতি সপ্তাহে তিনদিন ধোয়া ও বাছাইয়ের কাজ চলে। একেকবারে চার থেকে পাঁচ টন বিচি জমলে তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, এটা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করার মাধ্যমে শুধু কর্মসংস্থান বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ আরও প্রসারিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। কাঁঠালের বিচি প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণে প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাত আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।  সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিলে এই খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের করা সম্ভব।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর