স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেছেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে শক্তিশালী করেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন শুধু সাহায্যনির্ভর না থেকে উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার মহানগরীর পোড়াবাড়ি ফসিউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের মাঝে পশুখাদ্য বিতরণ, বিনামূল্যে গবাদিপশুর ভ্যাকসিনেশন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য সুলভ মূল্যে খাদ্যসামগ্রী এবং বিনামূল্যে পশুখাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করে প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধশালী করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নার্গিস খানম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন এবং ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আ ক ম মোফাজ্জল হোসেন।
এছাড়া সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির আওতায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর মাঝে বিনামূল্যে পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি গবাদিপশুর ভ্যাকসিনেশন, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
এ আয়োজনের মাধ্যমে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য দুধ, ডিম ও গরুর মাংসও সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। দুধ প্রতি লিটার ৭০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৬ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে প্রাণিসম্পদভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।