April 22, 2026, 8:39 am

কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, January 29, 2026
  • 72 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: পদ্মাপাড়ের পুণ্যভূমি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনী জনভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনবান্ধব প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি রাজশাহীর মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যান এবং গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রান্তিক কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সকল কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, আর সেই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের কৃষিকাজের প্রধান চালিকাশক্তি বরেন্দ্র প্রকল্প নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি কয়েকটা বিষয় তুলে ধরেন।
বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরুজ্জীবন: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বিস্তৃত হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প বর্তমানে থমকে আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্পকে আবারও পূর্ণোদ্যমে সচল করা হবে।
খাল খনন ও নদী শাসন: পানির সংকট নিরসনে দেশব্যাপী আবারও ‘খাল খনন’ কর্মসূচি শুরু করার এবং পদ্মা নদী খনন করে এর নাব্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ: পদ্মাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই ব্যারেজ নির্মিত হলে পুরো অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা পাবে। রাজশাহীর আমকে বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিত করতে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আধুনিক হিমাগার (Cold Storage) স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত হলে এই অঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
গত ১৭ বছরের শাসনামলকে ‘লুটেরা শাসন’ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে এ দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পেট ভরানো হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তিনি দেশ বাঁচানোর লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে নাকি স্বৈরাচারের অন্ধকারে ডুবে থাকবে—সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের নিতে হবে ১২ তারিখে। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো প্রকল্পই জনগণের হবে না, সেগুলো হবে শোষকদের পকেট ভরার মাধ্যম।
বক্তৃতায় তারেক রহমানের এক ভিন্নধর্মী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, “বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাসী। আমি আজ কারো সমালোচনা করতে আসিনি। কারো সমালোচনা করলে কি সাধারণ মানুষের পেট ভরবে? আমাদের লক্ষ্য মানুষের উন্নয়ন, ঝগড়া-ফাসাদ নয়।” তবে দেশের কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বর্তমান সরকারকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
পুরো উত্তরাঞ্চলকে বিএনপির দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রতিটি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভোট কেবল একজন প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, এটি নিজের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার।
দুপুর গড়ানোর আগেই রাজশাহীর মাদরাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আশেপাশের রাস্তাগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। তারেক রহমানের প্রতিটি ঘোষণার পর উপস্থিত জনতা মুহুর্মুহু করতালিতে তা স্বাগত জানায়।তারেক রহমানের আজকের এই ভাষণ রাজশাহীর মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। কৃষিঋণ মওকুফ আর পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রতিশ্রুতিগুলো আসন্ন নির্বাচনে উত্তরাঞ্চলের ভোটের সমীকরণে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর