April 21, 2026, 12:30 am

কালীগঞ্জে পুঁইশাক চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদল

Reporter Name
  • আপডেট Monday, January 20, 2025
  • 70 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর :: গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় পুঁইশাক চাষ করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে কৃষকদের। কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর গ্রামের সুফিয়া বেগম গত ১০ বছর যাবত পুঁইশাক চাষ করে আসছেন। পুঁইশাক বিক্রি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরেও এসেছে। এখন তার দেখাদেখি ওই গ্রামের আশপাশের কৃষকরাও পুঁইশাক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সুফিয়ার চাষ করা পুঁইশাক দেখতে বিভিন্ন পরামর্শ নিতে দূর দূরান্ত থেকে তার কাছে আসছে কৃষকরা।
এ বিষয়ে সুফিয়া বেগম জানান, স্বামী, দুই ছেলেসহ ৪ সদস্যের সংসার। পরিবার পুরোপুরি কৃষি নির্ভর। স্বামী ট্রাকটর দিয়ে নিজের জমি চাষ করার পর ভাড়ায় অন্যের জমি চাষ করে আয় করে থাকেন। পাশাপাশি স্বামীকে সহযোগীতার মানসিকতা নিয়ে তিনি পুঁইশাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। পর পর বেশ কয়েক বছর এই পুঁইশাক চাষে লাভবান হওয়ায় আরো বড় পরিসরে চাষ শুরু করেন। তাকে দেখে গ্রামের ও অন্যান্য কৃষকরাও এই পুঁইশাক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
সুফিয়া বেগম বলেন, আমার প্রায় ৪০ শতাংশ জমি আছে, সেখানে আমি গত ১০ যাবত এই পুঁইশাকের চাষ করে আসছি। প্রতি বছর আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ও হয়।
চুপাইর গ্রামের কৃষক মঞ্জুর হোসেন বলেন, সুফিয়া বেগম প্রতি বছরই পুঁইশাকের চাষ করেছেন। এবারো তার খেতে খুব সুন্দর পুঁইশাক হয়েছে। তিনি এই পুঁইশাক বিক্রি করে খুব লাভবান হয়েছেন। আমার ইচ্ছা আছে আগামী বছর আমিও পুঁইশাকের চাষ করবো।
আরেক কৃষক ইমান আলী বলেন, সুফিয়া বেগম পুঁইশাকের চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন। এই পুঁইশাক বিক্রি করে ভাল আয়ও হচ্ছে। তাকে দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। আগামীতে আধা বিঘা জমিতে এই পুঁইশাকের চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান  বলেন, এ উপজেলার কৃষকরা পুঁইশাকের চাষটা ব্যাপকভাবে আয়ত্ত করতে পেরেছে। এই পুঁইশাকের চাষাবাদটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পুঁইশাক চাষিরা স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করতে পারছে। প্রতিদিন স্থানীয় দোলান বাজার এলাকা থেকে ট্রাক-পিকআপ ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম  বলেন, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ২০০ গ্রাম শাক-সবজি খাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে ১০০ গ্রাম শাক ও ১০০ গ্রাম সবজি খেতে হয়। পুঁইশাক একটি জনপ্রিয় শাক। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই শাক-সবজির চাষ হয়ে থাকে। তবে এর মধ্যে জামালপুর ইউনিয়নের কিছু কিছু গ্রাম আছে সেখানে পুঁইশাকের চাষ একটু বেশি হয়। পুঁইশাকের চাষ খুব সহজেই কৃষক করতে পারে। কৃষকদের কেউ কেউ জমিতে বিছিয়ে পুঁইশাকের চাষ করে আবার কেউ মাচা করেও এই শাকের চাষ করে থাকে। পুঁইশাক যেহেতু শাক জাতীয় সবজি, তাই এটা থেকে আমরা বেশি পুষ্টি পাই। তবে এই পুঁইশাক চাষে রোগবালাইয়ের কিছু আক্রমণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে পাতায় দাগ রোগটা পুঁইশাকের বেশি দেখা যায়। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর