April 20, 2026, 10:28 pm

কালীগঞ্জের জামাই মেলায় মানুষের ভিড় মাছ কেনা নিয়ে জামাই-শ্বশুরের প্রতিযোগিতা

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, January 14, 2026
  • 107 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম:: প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল জামাই মেলা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটাকে মাছের মেলা বলে থাকেন। মেলা দেখতে এলাকাজুড়ে ঢল নেমেছে মানুষের। গাজীপুর জেলাসহ আশপাশের জেলার মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছে মেলায়।
আজ বুধবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠের মাঝখানে বসেছে এই মেলা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা জমে ওঠে দুপুর পর্যন্ত। এ অঞ্চলের লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, মেলা উপলক্ষ্যে আশপাশের গ্রামের মেয়ের জামাইরা আসেন শ্বশুরবাড়ি। পরে জামাই-শ্বশুর মিলে মেলায় গিয়ে প্রতিযোগিতা করে মাছ কিনে থাকেন। মেলা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর সারাদেশ থেকে বিক্রেতারা এখানে বড় বড় রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতল ও সামুদ্রিক অন্তত ৩০ প্রজাতির মাছ নিয়ে আসেন। মাছ ছাড়াও বিভিন্ন খাবারের দোকান, আসবাবপত্র, মনিহারি, খেলনা ও মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।
বিক্রেতারা জানান, ঐতিহ্যের কারণে বিনিরাইলের মাছের মেলায় কেনার চেয়ে দেখতে আসা মানুষের ভিড় বেশি। তবে বিক্রিও হয় অনেক। আমরা শুধু লাভের আশায় আসি না, এটা আমাদের কাছে একটা আনন্দের দিন।


মাছ কিনতে আসা ইকবাল বলেন, মূলত বছরের এই দিনটাতে অনেক ব্যস্ততা কাটিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসি মেলা উপলক্ষ্যে। শ্বশুরের সাথে প্রতিযোগিতা করে মাছ কিনি। এছাড়াও মিষ্টি, বিভিন্ন মুখরোচক খাবার কিনে হৈ-হুল্লোড় করে বাড়ি ফিরে যাই।
স্থানীরা জানান, একে অপরের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন হওয়া ও আনন্দ উল্লাস করতে প্রতি বছর এ মেলায় যোগ দেন তারা। এখানে বেচাকেনাকে মুখ্য মনে করেন না বলেও জানান বিক্রেতারা।
আয়োজকরা বলেন, শুরুতে মেলাটি অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। এটি অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো। প্রায় আড়াইশ বছর ধরে মেলাটির আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। তাই বেড়েছে মেলার পরিধিও। এখানে শুধু মাছ নয়, এ মেলাকে কেন্দ্র করে বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের স্টল বসে। মেলাকে ঘিরে বিনিরাইলের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষ্যে মেয়ে-জামাইকে দাওয়াত করে আনা এই এলাকার মানুষের রীতিতে পরিণত হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর