মো: মুর্শিকুল আলম :: উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করলে তা কখনোই টেকসই হবে না। মানুষের ওপর অত্যাচারের বিচার হয়, কিন্তু নদী, পাহাড় বা গাছের ওপর অত্যাচারের বিচার চাইবে কার কাছে এ প্রশ্ন আমাদের ভাবতে হবে। আজ শনিবার বিকেলে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, সংস্কৃতি বা বিতর্ক শুধুমাত্র বিনোদনের জায়গা নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি মাধ্যম। প্রকৃতিকে রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভাবতে হবে আমরা কী চাই নদীর কাছে, কৃষিজমির কাছে কী চাই। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বিতর্কে আনতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি ধ্বংস করে কিছু করা যায় না, সেটি টেকসই হয় না। অপরিহার্য জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া আমরা গাছ কাটতে পারি না, এগুলো নিয়ে বিতর্ক করা জরুরি। মানুষ যখন নদী দখল করে, গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলে, পাহাড় ধ্বংস করে বা সোনাদিয়াতে বন পুড়িয়ে চিংড়ি চাষ করে, তখন প্রকৃতি তার বিচার চাইবে কোথায়? মানুষের ক্ষেত্রে আদালত আছে, আইন আছে, কিন্তু প্রকৃতি কোথায় যাবে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারাবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।