June 6, 2026, 1:02 pm

ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, June 6, 2026
  • 14 জন দেখেছে

স্পোর্টস ডেস্ক:: বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে নেমেই পেয়েছে ঐতিহাসিক সাফল্য। জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তুলে নিয়েছে অবিস্মরণীয় এক জয়। ফিফা প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে হারিয়ে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। নতুন মার্কিন কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ, আর সেই যাত্রা শুরু হলো জয় দিয়েই।
সান মারিনো ফিফা র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে নিচের দল। তারা ইউরোপের দেশ হওয়ায় জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে খেলেন। তাই সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের আনন্দ অনেক। কারণ ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ও জয়। এর আগে বাংলাদেশ ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেললেও ম্যাচটি জিততে পারেনি। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন তিনি। দুটি গোলই হেডে করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভুইয়া উঠে যাওয়ার পর তপুর হাতে ছিল আর্মব্যান্ড। বাংলাদেশের ইউরোপের দলের বিপক্ষে প্রথম জয় এনে দিয়েছেন তপু। প্রথমার্ধে ১-১ সমতা ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে নামান। জায়ান ও সামিত নামার পর খেলার গতি বাড়ে। বাংলাদেশ একটি গোল বঞ্চিত হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
ম্যাচের শেষ পনেরো মিনিট আগে বিশ্বনাথ ঘোষকে নামান ডুলি। বিশ্বনাথ ফুলব্যাক খেললেও আজ তাকে রাইট উইং খেলানো হয়েছে। জয়সূচক গোলে বিশ্বনাথের অবদান রয়েছে। ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্তে হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে বিশ্বনাথ ভলি নেন। তপু বর্মণ মাটিতে পড়েছিলেন। উঠার সময় তার মাথায় বল লেগে গোল হয়।
চতুর্থ রেফারি চার মিনিট ইনজুরি সময় দেন। সান মারিনো গোলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফস্কে বল গোললাইন ক্রসও করেছিল। পুরোপুরি অতিক্রম না করায় বাংলাদেশ গোল হজম থেকে রক্ষা পায়। শেষ দুই মিনিট নিরাপদে পার করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
সান মারিনো ইতালির মধ্যেই ক্ষুদ্র একটি দেশ। ইতালিতে বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী বসবাস করেন। রোম, ভেনিস অনেক শহর থেকে সান মারিনোতে হামজাদের খেলা দেখতে যান। গ্যালারি প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের সমর্থকদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও হোম ম্যাচের আবহই বিরাজমান
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শুরুটা খানিকটা নড়বড়ে ছিল। সান মারিনো বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল। দশ মিনিট পর বাংলাদেশ গুছিয়ে উঠে। ১৯ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পায়। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে শেখ মোরসালিন ডান প্রান্ত থেকে ক্রস করেন তপু বর্মণ হেডে সান মারিনোর জালে বল পাঠান। উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।
বাংলাদেশের এই আনন্দ ১৪ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। গোলদাতা তপু বর্মণের ভুলেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। বেরাদিকে ফাইনাল চার্জ করলেও তাকে রুখতে পারেননি তপু। এরপর বেরাদি কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় দাড়িয়ে নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়লেও বল তার হাতে লেগেই জালে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ আবার এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ পেয়েছিল। এবারও বলের যোগানদাতা ছিলেন শেখ মোরসালিন। তার বাড়ানো বল সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের উপরে শট নেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর