মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার (মুক্তারবাড়ি) এলাকায় রান্না ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ চারজন দগ্ধ হয়ে হয়েছেন। বিস্ফোরণে ঘরের দরাজা জানালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।
দগ্ধরা হলেন, মো. মিনারুল ইসলাম (৩৫) তিনি গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার। অন্যরা হলেন, মিনারুল ইসলামের বাবা ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড থানার লক্ষীপুর গ্রামের মো. ফরমান মন্ডল (৭৫) ও মা খাদিজা বেগম (৬৫) এবং টেকনিশিয়ান পাবণার সুজানগর থানার মোকলেসপুর গ্রামের মো. হোসেমন আলী ওরফে মনিরের ছেলে মোঃ সফিকুল ইসলাম (২৫)।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মো. মিনারুল ইসলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের সেকশণ অফিসার হিসেবে কর্মরত।
গাছা থানার ওসি মোঃ ইব্রাহীম হোসেন জানান, গাজীপুর মহনগরীর গাছা থানার উত্তর খাইলকুর জমির উদ্দিন খান রোডে মেম্বারবাড়ি এলাকায় মিনারুল ইসলাম তার স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে বসবাস করেন। রোববার বিকালে তাদের বাড়ির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারের ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ থেকে একটি গ্যাস ভর্তি নতুন সিলিন্ডার কিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু সিলিন্ডারটি চুলায় সংযোগের পরও গ্যাস জ্বলছিল না। পরে মিনারুল সিলিন্ডারের দোকান থেকে মিস্ত্রি (টেকনিশিয়ান) সফিকুল ইসলামকে সেটি মেরামত করার জন্য বাসায় নিয়ে যান। ইতোপূর্বে সিলিন্ডারের গ্যাসপাইপ লিকেজ হয়ে গ্যাস ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সফিকুল ইসলাম সিলিন্ডারটি মেরামত করার সময় অটো চুলার সুইচ চাপাচাপি করার এক পর্যায়ে চুলার স্পার্কিং থেকে বিকট শব্দে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়। এতে রান্না ঘরে থাকা মা খাদিজা, পাশের কক্ষে থাকা মিনারুল ও তার পিতা ফরমান মন্ডল অগ্নিগদ্ধ হয়। এসময়ে তার স্ত্রী ও সন্তান পাশের অন্য একটি কক্ষে থাকায় তারা রক্ষাপান। বিস্ফোরণ ও গ্যাসের চাপে রুমে থাকা জানালার থাই গ্লাস চুরমার হয়ে যায় এবং ঘরের দরজাসহ আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যাওয়ার আগেই বিকট শব্দে আগুন সৃষ্টির পর পরই তা নিভে যায়।
খবর পেয়ে গাছা থানার এসআই কামরুল ইসলাম সঙ্গী ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিআইডি ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। আহতরা ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাবা ফরমান মন্ডল ও ছেলে মিনারুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে সফিকুল ইসলাম ও খাদিজা আশঙ্কামুক্ত।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, দ্বগ্ধদের মধ্যে শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউটে ভর্তিকৃত মিনারুল ইসলাম ৯৫%, তার বাবা ফরমান মন্ডল ৯৫% এবং মা খাদিজা ৫% দ্বগ্ধ হয়েছেন।
গাজীপুরের গাছা থানার ওসি ইব্রাহিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আগুনে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার অক্ষত থাকায় প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে।