নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: গাজীপুরে ছিনতাইকারী হাতে ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতা আরজু মিয়াসহ ৫ জনকে রাজধানীর দক্ষিণখান ও গাজীপুরের পূবাইল হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। আজ রোববার (২৩ জুলাই) কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোশতাক আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ১৪ জুলাই ভোরবেলায় কালিগঞ্জের ছাতিয়ানি উত্তরপাড়ার মৃত উসমান আলী শেখের পুত্র ব্যবসায়ী মোমেন শেখ (৫০) প্রতিদিনের ন্যায় ফল ক্রয় করার জন্য ব্যাটারি চালিত অটো রিকশাযোগে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে।
গাজীপুরের হাড়িনাল হানকাটা ব্রীজের উপর পৌঁছালে অজ্ঞাতানামা পিক-আপযোগে ৫/৬ জন ছিনতাইকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে এবং ভিকটিম মোমেন শেখের কাছে থাকা ফল কেনার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ভিকটিম মোমেন শেখ বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ভিকটিম মোমেন শেখ এর বুকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ভিকটিম মোমেন শেখ ঘটনাস্থলে মারা গেলে ছিনতাইকারীরা ভিকটিমের মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী মোছা. সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে জিএমপি, গাজীপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে একটি ছিনতাইসহ হত্যা মামলা দায়ের করে। যা গাজীপুর সদর থানার মামলা নং-২০, তারিখঃ ১৪/০৭/২০২৩ ধারা-৩৯৪/৩০২ পেনাল কোড। এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা রহস্য উম্মোচনের জন্য র্যাব-১ এর আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে র্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর দক্ষিণখান ও গাজীপুরের পূবাইল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সহ অন্যান্য আসামি নরসিংদির শফর আলীর ছেলে আরজু মিয়া (৩৪), নড়াইলের মিটু মোল্লার ছেলে মো, সোহান (১৮), ময়মনসিংহের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নবী হোসেন (২৯), নেত্রকোনার সাবেদ আলীর ছেলে রাজিব মিয়া (২১) ও গাজীপুরের চান মিয়ার ছেলে শাকিল আহম্মেদকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় আসামিদের নিকট হতে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত ১ টি পিকআপ, ২ টি লোহার রড, ১ টি ছুঁচালো লোহার কঞ্চি, ১টি লাঠি ও আসামিদের ৬ টি মোবাইল এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত ১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা ভিকটিম মোমেন শেখকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়।
অভিযুক্তদের র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন এলকায় ছিনতাই করে থাকে। এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আরজু মিয়ার ভাষ্যমতে তারা পূর্বের ন্যায় ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে গত ১৪ জুলাই ভোরবেলায় বাসা থেকে বের হয়ে নরুন বাজার এলাকায় অবস্থান করে এবং ভিকটিম মোমেন শেখ এর অটোরিকশাটিকে দেখে তা ছিনতাই এর পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের অটোরিকশাটি হানকাটা ব্রিজের উপরে পৌঁছালে তারা অটোরিকশাটির গতিরোধ করে এবং চালক মাহাবুব আলমকে টেনে হেঁচড়ে রাস্তার পাশে দাঁড় করে বুকে চাকু ধরে ভয় দেখাতে থাকে। এতে ভিকটিম মোমেন শেখ তাদেরকে ছিনতাইয়ে বাধা দিলে আরজু মিয়া তার হাতে থাকা সূচালো লোহার রড দিয়ে ভিকটিমের হাতে, পেটে ও বুকে আঘাত করে এবং এক পর্যায়ে সূচালো লোহার রড বুকে ডুকিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। তার দেখাদেখি অপর সহযোগী সোহান তার সঙ্গে থাকা অপর আরেকটি সূচালো লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। পরে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভিকটিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল হতে পলায়ন করে। পরবর্তীতে অটোচালক মাহাবুব আলম ভিকটিমকে গুরুত্বর জখম অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করে। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, আসামি আরজু মিয়ার নামে ১ টি এবং নবী হোসেন এর নামে ৪ টি ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।