July 8, 2026, 1:30 pm

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, July 8, 2026
  • 7 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৈঠকের শুরুতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির সরকারকে অভিনন্দন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।
তিনি ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভিয়েতনাম সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি প্রকৃত বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) কার্যকর হলে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত দ্বিগুণ হবে।
বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ আমদানির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
এ ছাড়া আসিয়ানে বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এর সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের সমর্থন প্রত্যাশা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করে তারা।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর