নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন খিলগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহকে কেন্দ্র করে তালাক, চুরি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব এখন পৌঁছেছে থানা ও জনসমাজের আলোচনার কেন্দ্রে।
ভুক্তভোগী দাবি করে মো. রাকিব (৪৬), পেশায় রাজমিস্ত্রি, পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগে জানান— তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০) দীর্ঘদিন ধরে উশৃঙ্খল জীবনযাপন করে আসছেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকালে কাজে বাইরে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, সহযোগী ফাহিমা (৩৫) ও লিজা (২০)-এর সহায়তায় তার শয়নকক্ষের আলমারি থেকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা, আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে চলে যান। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, আনোয়ারা পূবাইল কলেজ গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।
রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীকে বারবার সংসারে ফিরে আসার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অনেকেই অবগত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। দেরিতে অভিযোগ দায়েরের কারণ হিসেবে তিনি পারিবারিক আলোচনা ও সামাজিক সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারা বেগম সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। তালাক দেওয়ার পরও কয়েকদিন অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু স্বামীর আচরণে পরিবর্তন না আসায় তিনি আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। বরং তাকে জোরপূর্বক ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন চাকরি করে সংসার চালিয়েছি, ঋণগ্রস্ত হয়েছি। এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।”
এদিকে, রাকিব দাবি করেন— প্রায় ৩০ বছরের সংসার জীবনে তাদের সন্তান-সন্ততি এমনকি নাতি-নাতনিও রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী বিভিন্ন নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে আনোয়ারা বেগম গাজীপুরে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে কোর্টে হলফনামা দিয়ে স্বামীকে তালাক প্রদান করেছেন। ঘোষণাপত্রে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ততা, পরনারীতে আসক্তি, যৌতুক দাবি, নির্যাতন ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ আনেন এবং স্বেচ্ছায় বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক এই জটিল বিরোধ এখন আইনি প্রক্রিয়ার দিকে গড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।