স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সফিপুরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওষুধ কারখানার কর্মচারী শফিকুল ইসলাম বুলবুল (৫২) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে জেলা পুলিশ এক প্রেস রিলিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভিকটিম শফিকুল ইসলাম বুলবুল বগুড়ার নন্দীগ্রাম উটজেলার ভাতগ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের (সফিপুর পূর্বপাড়া) এলাকার আনসার একাডেমি ৩নং গেট সংলগ্ন একতা টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকতেন। তিনি ২০ বছর ধরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানার প্রোডাকশন হেলপার হিসেবে চাকরি করতেন।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) হত্যার ঘটনায় দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কালিয়াকৈরের রাখালিয়াচালা গ্রামের আলমগীরের ভাড়া বাসা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিরা হলো– সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হালাবাদী গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে আফজাল হোসেন মাসুদ (২৫) এবং জামালপুর সদর উপজেলার হালুয়াবাজার গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে রিপন হোসেন মুন্না (২৪)। রবিবার (১৯ এপ্রিল) তাদের আদালতে ওঠালে ঘটনার দায় স্বীকার করে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভিকটিম শফিকুল ইসলাম বুলবুল বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় যান। তার স্ত্রী ফরিদা বেগম ওই এলাকার একটি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। তার স্ত্রীর রাতে ডিউটি থাকায় তাকে আনার জন্য রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হন। রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্মস্থল থেকে বের হয়ে তাকে ফোন করে বন্ধ পেয়ে বাসায় চলে যান তার স্ত্রী। বাসায় গিয়ে স্বামীকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। পরদিন (১৬ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে সফিপুর আনসার একাডেমির ১নং গেটের পূর্বপাশে সফিপুর-চন্দ্রা সড়কের দক্ষিণ পাশে বিদ্যুতের খুঁটির গোড়ায় ভিকটিমের লাশ পাওয়া যায়। লাশের বাঁ পায়ের উরুতে ছিদ্রযুক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
হত্যার ঘটনায় তার ছেলে রেজোয়ান আহমেদ শ্রাবণ (১৮) অজ্ঞাতদের আসামি করে কালিয়াকৈর থানার মামলা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা পুলিশ আভিযান চালিয়ে কালিয়াকৈর থানাধীন রাখালিয়াচালা এলাকা থেকে আসামি আফজাল হোসেন মাসুদ এবং রিপন হোসেন মুন্নাকে গ্রেফতার করে। আদালতে তারা হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।