স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পেলাইদ কাটাখালী গুদারাঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহত গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তার, যিনি বরমী এলাকার ওয়াজ উদ্দিনের মেয়ে এবং শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের সম্রাটের স্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের তিন দিন পর শুক্রবার তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।
প্রায় ১৭ মাস আগে পারিবারিকভাবে বৃষ্টির বিয়ে হয় সম্রাটের সঙ্গে। তিনি স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। নিহতের বাবা ওয়াজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার খোলা ছিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, বৃষ্টির স্বামী সম্রাটের খালাতো ভাই শরীফ পলাতক রয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির শাশুড়ির সঙ্গে শরীফদের সম্পর্ক ভালো ছিল না, যদিও তাঁরা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। এ ঘটনায় শরীফের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
ঘটনার পর পুলিশ সন্দেহজনকভাবে নিহতের স্বামী সম্রাটকে আটক করেছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।