শারমিন আক্তার:: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক ১ নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম কামু মাদকমুক্ত একটি সুন্দর ওয়ার্ড উপহার দিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের হামলা, মামলা, জেল, জুলুম, নির্যাতন করার পরও তাকে ধমিয়ে রাখতে পারেনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এলাকার জনগণকে সাথে নিয়ে ৪৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ নায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম কামু বলেন, আমি প্রথমেই দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। তিনি অসুস্থ্য হয়ে আইসিওতে ভর্তি রয়েছেন। আমি দোয়া করছি আল্লাহপাক যেন নেত্রীকে দ্রুত সুস্থ্যতা দান করেন।
তিনি বলেন, আমার জীবনের দীর্ঘ ১৭ বছর কেটেছে কারাগারে। আওয়ামীলীগ সরকার আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা, আমার ছেলে, আত্মীয়স্বজন—অনেকেই এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন। অথচ আমি একবারও তাদের জানাজার নামাজে অংশ নিতে পারিনি। এই কষ্ট কেউ বুঝবে না, যদি নিজে না ভোগ করে। আজ কিছু নেতা বলেন, আমি নাকি আন্দোলন করিনি, রাস্তায় নামিনি। আমি তখন জেলে ছিলাম! আমি কোথায় নামব? আমি তখনও দলের প্রতি অবিচল ছিলাম। যখন কেউ ছিল না, তখন আমি মাঠে ছিলাম, টঙ্গীর রাজনীতির হাল ধরেছিলাম।
তিনি বলেন, আমি ৪৯নং ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। আমি অসহায় মা বোনদের খাদ্য, বস্ত্র, টাকা, চিকিৎসা সেবা দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করছি। আমি কাউন্সিলর হতে আসিনি, এসেছি এলাকাবাসীর সেবক হিসেবে। আমি হব আপনাদের রক্ষক, বক্ষক নয়—প্রকৃত রক্ষক। এই এলাকায় গ্যাস সংকট নিরসন করে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করব, যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করব, মহিলাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করব, ছিনতাই ও মাদক দমনের জন্য প্রতিটি গলিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাস্তাঘাট-ড্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবো।
তিনি আরো বলেন, আমি জেলে থেকেও এলাকার খবর নিয়েছি। এখনো প্রতিদিন রাস্তায় ঘুরে দেখি কোথায় মানুষ কষ্টে আছে। আমি গরিবের বন্ধু হতে চাই, বড় নেতা নয়। অনেকে বলে ক্লিন ইমেজ দরকার। আমি বলি— আমার চেয়ে ক্লিন ইমেজের মানুষ যদি পান, তাহলে তাকেই ভোট দিন। না পেলে আমাকেই দিন। আমি রাজনীতি করি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে, মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায়। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ এই এলাকার প্রতিটি দরজায় উন্নয়নের আলো পৌঁছে যাবে।
তিনি মাদকের বিষয়ে বলেন, মাদকদ্রব্য সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য একটা অন্যতম সমস্যা। মাদকের অবৈধ ব্যবহার দিন দিন আমাদের প্রজন্মকে গ্রাস করে নিচ্ছে। ধ্বংস করছে আমাদের সন্তানদের মেধা, ঘটাচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়। মাদক শুধু আমাদের দেশের জন্য নয়, এটি এখন বিশ্ব জুড়েই সমস্যার মধ্যে অন্যতম। মাদক সেবনের ফলে তরুণ ও যুবসমাজ তাদের জীবনীশক্তি, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও মেধা-মনন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। হতাশায় নিমজ্জিত যুবসমাজের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। ফলে এসব তরুণ-যুবক জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে। কতিপয় চোরাকারবারির মাধ্যমে দেশের ভেতর মাদক ঢুকছে এবং তা চলে যাচ্ছে আমাদের দেশের তরুণ ও যুব সমাজের কাছে। খুব সহজেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। হাতের কাছে সহজলভ্য এসব ইয়াবা, মদ, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে দেশের মেরুদন্ড তরুণ-যুবসমাজ। মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু তার জীবনই নয়, দুর্বিষহ করে তুলছে তার পরিবারের সদস্যদের জীবন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের প্রতিবেশীদের জীবন। সমাজে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে মাদকসেবীর পরিবারকেও ঘৃণার চোখে দেখছে সমাজের মানুষ। মাদকের কারণে আমাদের দেশের তরুণ ও যুবসমাজ আজ মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। মাদকাসক্তরা চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ধ্বংস করছে তাদের জীবন। মাদকের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সর্বপ্রথম আমাদের সামাজিক সচেতনতা, মাদকবিরোধী আন্দোলন, মাদকের সহজলভ্যতা রোধ করতে হবে। সমাজের তরুণ-যুবকদের হাতে মাদকদ্রব্য যাতে সহজেই পৌঁছতে না পারে সেদিকে খেয়াল রেখে মাদক পাচার রোধে অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী প্রচারণায় গণসচেতনতা বাড়ানোতে প্রয়োজন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততা। প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজে, মসজিদ ও মাদ্রাসায় মাদকবিরোধী সচেতনামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। আসুন মাদককে না বলি। আমাদের সন্তানদের সময় দেই, তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করি। তারা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে সেদিকে নজর রাখি। তারা যাতে খারাপ পথে পা না বাড়ায়, মাদকের ভয়াবহ অন্ধকারে না প্রবেশ করে তার জন্য সচেতন হই। আর এ ক্ষেত্রে মা-বাবার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সচেতনতাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও ব্যক্তির সহযোগিতামূলক আচরণ ও গণসচেতনতা প্রয়োজন। মাদকমুক্ত দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। জীবন ও দেশকে ভালোবাসতে পারলে মাদক কখনো আমাদের গ্রাস করতে পারবে না।