স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: টঙ্গীতে তৈরী পোশাকশিল্পে পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ-বিলস এর উদ্যোগে এবং কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভ (সিএফএলআই) এর সহায়তায় যুবা ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠক ও স্থানীয় কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুক্রবার (২২ আগস্ট) পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল আমিন। বৈঠকে বিভিন্ন সুপারিশ ও মতামত তুলে ধরেন শিক্ষাবিদ প্রদীপ দেবনাথ, আ স ম জাকারিয়া, সাংবাদিক মনসুর আহমেদ, অলিদুর রহমান অলি, সংস্কৃতিকর্মী শেকানুল ইসলাম শাহী, শাহজাহান শোভন, মাহবুবুর রহমান জিলানী, গার্মেন্টস প্রতিনিধি শামিম রেজা, স্থানীয় সরকার কর্মকর্তা আতিক শাহরিয়ার সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, আইনজীবি, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিলসের উপ-পরিচালক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. ইউসুফ আল-মামুন টঙ্গীর বর্তমান জলবায়ূ ও পরিবেশগত অবস্থা তুলে ধরে এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা জাকিয়া বেগম নীলিমা এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সমাজ কর্মী সখিনা আক্তার।
বক্তারা বলেন, আত্মকেন্দ্রিকতাকে পাশ কাটিয়ে একত্রিকরণের মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ূ মোকাবেলায় সক্রিয় হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন, কমিউনিটি, মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সচেতনতার কাজটি এগিয়ে নিতে হবে। এই উদ্যোগে কমিউনিটির জনগন সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলে উদ্যোগটি সফল হবে। তারা বলেন, বেঁচে থাকার জন্য শিল্প উন্নয়ন ও নগরায়ন প্রয়োজন। তবে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে হবে। কাজের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে। কারখানা স্থাপনে যথাযথ কমপ্লায়েন্স অনুসরন করতে হবে। যেখানে শূণ্যতা আছে তা পূরণে সক্রিয় হতে হবে। ট্রেড ইউনিয়নকে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জীবন ধারনের অপচয় রোধ করতে না পারলে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারাখানার ইটিপি ব্যবহারে অবহেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায় বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সতেনতা বৃদ্ধির জরুরী। তারা বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ধর্মীয় তাগিদ রয়েছে। তবে প্রথমে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এ ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য এবং এটা প্রথমে ঘর থেকে শুরু করতে হবে।
এ ছাড়াও হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়া, তৈরী পোশাক কারখানার টয়লেটগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা, সংস্কৃতিকর্মীদের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, আবর্জনা পরিস্কারে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখা, মিডিয়ার মাধ্যমে ভালো কাজগুলো তুলে ধরা, যানজট নিরসন করা, পলিথিন নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা, পরিত্যক্ত আবর্জনা দায়িত্বশীলভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে স্কুলের শিশুদের শেখানো, বৈদেশিক সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তারা তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন।