নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সব টোল প্লাজার ইসিটি (ইলেকট্রোনিক টোল কালেকশন) চালুসহ মেঘনা সেতুর দ্বিতীয় টোল প্লাজা উদ্বোধন করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের । শনিবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তিনি।এছাড়াও এলেঙ্গা (টাঙ্গাইল) থেকে রংপুর মহাসড়কে রেলওয়ে ওভারপাস ৭টি ওভারপাস ও ২টি সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্তকরণ করা হয়েছে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা অনেকটা স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুরের মর্ডান মোড় পর্যন্ত ১৯০.৪ কিলোমিটার সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুন মাসে। কিন্তু করোনাসহ নানা কারণে অনেকটা পিছিয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ মহাসড়ক খুলে দেওয়া হলে প্রায় ৫ ঘণ্টায় (অর্ধেক সময়) রংপুর থেকে রাজধানী ঢাকায় যাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের শিল্প ও বাজার অঞ্চলে ৫০ কিলোমিটার কংক্রিট পেভমেন্ট, ২৬টি সেতু, ৩৯টি আন্ডারপাস, ৬টি ফ্লাইওভার, ১৮০টি কালভার্ট এবং পথচারী পারাপারের জন্য ১১টি পথচারী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ঈদযাত্রার দুর্ভোগ নিত্যবছরের নিয়তী ছিল। আগে ছিল ফেরী পারাপারের দুর্ভোগ, ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর সেই দুর্ভোগ কাটলেও কয়েক বছরের মধ্যে ফিকে হতে থাকে স্বপ্ন। সেতু চালু হওয়ার পরও নানা জায়গায় জটের কারণে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কোনো কোনো বছর ৩০ ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
প্রথম দিকে জটের কারণ ছিল নবীনগর, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল ঢাকা-এলেঙ্গা ফোরলেন হওয়ায় সেই দুর্ভোগ অনেকটা কমে এসেছে। এখন দুর্ভোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে এলেঙ্গা ও হাটিকুমরুল। এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়কের কাজ শেষের আশায় বুক বেঁধে রেখেছেন উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বড় বড় বাজারগুলোতে ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় দূরপাল্লার যাত্রা অনেকটা নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।