July 9, 2026, 9:50 pm

সিদ্ধিরগঞ্জে নকশা বহিভূত নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইটের স্তুপ পড়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু ॥ রাজউকের দায়সারা অভিযান

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, March 10, 2024
  • 128 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে আব্দুল্লাহ (৮) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতবছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর রাজউক কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙ্গে। নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাজউক ওই ভবনের বর্ধিত কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় এ অভিযান চালায় রাজউক কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পাঁচ মাস পর রাজউকের এ অভিযানকে দায়সারা ও লোক দেখানো বলে অভিযোগ করেছেন নিহত স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহর বাবা-মা।
গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ‘স্বপ্ন বিলাস’ নামে নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের ৮ তলা থেকে ইটের স্তূপ (২৮টি ইটযুক্ত পিলার) পড়ে পার্শ্ববর্তী শরীফুল ইসলাম মাস্টারের টিনশেড বাড়ির ওপর। এ সময় টিনের চাল ভেদ করে ইট পড়ে ঘরে শুয়ে থাকা স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহর মাথার ওপর পরে মাথা থেতলে গিয়ে মগজ বের হয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার একদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ‘স্বপ্ন বিলাস’ ভবনের মালিক মোহাম্মাদ আলী, আলমগীর হোসেন, কামরুল হোসেন, আবুল বাশার, সুলতান মিয়া, আহমাদ আলী, জিয়াসহ ১৩-১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। বিল্ডিং কোড এবং সেফটি চেইন বহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে হত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ এনে গত বছর ৮ অক্টোবর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেন নিহত আব্দুল্লাহর বাবা শরীফুল। একই দিনে রাজউকের অথরাইজ অফিসারের কাছেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ দেওয়ার ৫ মাস পর ভবনের নিচতলার ভেতরের দেয়াল সামান্য ভেঙে রাজউক লোক দেখানো দায়সারা অভিযান শেষ করেছে বলে অভিযোগ করেন নিহত আব্দুল্লাহর বাবা শরীফুল ও মা রুনা আক্তার। একই দিন একই এলাকায় অভিযান চলায় রাজউক। এ সময় নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অপরাধে একই এলাকার স্কাই ভবন-১, স্কাই ভবন-২ ও টি টাওয়ারের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু যেই নির্মাণাধীন ভবনের ইটের স্তুপ পড়ে স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে সেই ভবণের কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং সিলগালাও করা হয়নি। শুধু নামে মাত্র ওই ভবনের মধ্যস্থ সিঁড়ির কিছু অংশ ভেঙ্গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই তারা এসব বাড়ির বর্ধিত অংশ ভেঙে দিয়েছেন। এ ছাড়া বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব বাড়ির মালিকরা ভবিষ্যতে ফের এ ধরনের অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার প্রধান আসামি মিজমিজি রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ আলী ভবন নির্মাণে ত্রুটি রয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, রাজউকে তাদের ভবনের বিরুদ্ধে শরীফ মাস্টার একটি অভিযোগ দিয়েছেন। রাজউক থেকেও এ ব্যাপারে ব্যখ্যা চেয়ে তাদের চিঠি দিয়েছিল। তারা রাজউককে চিঠির জবাব দিয়েছেন। এরপরও রাজউক তাদের ভবনের কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রাও রাজউকের লোক দেখানো অভিযানকে তামাশা বলে উল্লেখ করেন।
রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম বলেন, তারা অভিযানে এসে ভবনের ওপরে উঠতে না পেরে ওপরের বর্ধিত অংশ ভাঙতে পারেননি। স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় এ ভবন নিয়ে মামলা থাকায় ওপরে উঠার গেটে পুলিশের দেওয়া তালা রয়েছে, যাতে মামলার আলামত নষ্ট না হয়। তবে ঘটনার দীর্ঘদিন পরে কেন অভিযান চালানো হলো এ ব্যাপারে তিনি কোনো কথা বলেননি। এদিকে ভবনের মালিকরা নিহত আব্দুল্লাহর পরিবারকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী শরীফুল ও তাঁর স্ত্রী। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মাদ আলী বলেন, তারা ভয়ভীতি দেখাননি বা হত্যার হুমকি দেননি। তবে লোক পাঠিয়ে বাদীর সঙ্গে আপোষের প্রস্তাব দিয়েছেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর