July 9, 2026, 9:18 pm

গাজীপুরে আলোচনায় সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, January 9, 2024
  • 367 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: গাজীপুরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন সাবেক সিটি মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও টঙ্গীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান। জাহাঙ্গীর আলম মহানগরীর সাথে যুক্ত তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন। অপরদিকে মহানগরীর মূল আসন গাজীপুর-২ নির্বাচনী এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের পক্ষে আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামেন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। অবশেষে তিনি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। গেল সিটি নির্বাচনেও তার মনোনয়ন বাতিল হয়। ফলে তিনি স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে এবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে অনেকটা নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি শেষমেষ মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত থাকেন। তবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ না নিলেও নানা নাটকীয়তার পর শেষ মূহুর্তে তার পূর্ণ সমর্থন নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অথচ এর একদিন আগেও বুদ্দিনের ভোটে দাঁড়ানোর কোন সম্ভাবনাই ছিলো না। নির্বাচনী মাঠে একেবারেই নতুন মুখ বুদ্দিনের ভোটের মাঠও মোটেই ভালো ছিলো না। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলম বুদ্দিনকে নিয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচনী মাঠে নামলে হু হু করে তার নির্বাচনি মাঠ চাঙ্গা হতে থাকে। নির্বাচনের এক দিন আগেও তারা বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী মাঠে বিপত্তি ঘটে জাহাঙ্গীর আলমের কিছু বক্তব্য নিয়ে। তিনি নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিমন্ত্রী রাসেলের সাথে টঙ্গীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানকেও জড়িয়ে কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য দেন। এতে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বুদ্দিনের বিজয় ঠেকাতে নির্বাচনী মাঠে রাত-দিন সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন। ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানের ধাক্কা ও মেকানিজমে বুদ্দিনের ভোটের চাঙ্গা মাঠের তরতরিয়ে পতন ঘটতে থাকে। এতে প্রধান সিপাহ শালার ভূমিকায় ছিলেন অপর ব্যবসায়ী মমতাজ উদ্দিন ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তারা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে দিন-রাত নৌকার জন্য নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিমত, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তার আত্মীয় স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা যা করেছেন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান একাই তাদের সকলের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে অবর্তীণ হন। শেষে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান নির্বাচনী মাঠে হস্তক্ষেপ না করলে নৌকার পতন ঠেকানো অসম্ভব হতো। গাজীপুর-২ আসনে আলোচিত প্রধান এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রভাবশালী আলোচিত দুই জন সমর্থক সর্ব শক্তি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামলেও কাঙ্খিত ভোটার উপস্থিতি ঘটেনি। দিনভর ভোট কেন্দ্রগুলো ছিলো ফাঁকা। গাজীপুর -২ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার পরও ভোট কাস্টিং হয়েছে মাত্র ২৫.৩৭ ভাগ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর