স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী ও জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হেলেনা জাহাঙ্গীর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। গ্রেফতারের ১৩ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘বুধবার রাতে আদালত থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মুক্তির কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে বুধবার বিকালে শুনানি শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। গত ২ নভেম্বর হেলেনা জাহাঙ্গীর ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ঢাকা থেকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে আনা হয়। কারাগারে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রাইটারের কাজ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, প্রতারণা ও বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ২৯ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট রাতে পল্লবী থানায় সাংবাদিক আব্দুর রহমান তুহিন বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীর ছাড়াও জয়যাত্রা টিভির জেনারেল ম্যানেজার হাজেরা খাতুন, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামরুজ্জামান আরিফ, কো-অর্ডিনেটর সানাউল্ল্যাহ নূরী ও স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ শাহরিয়ারকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক শাহিনুর ইসলাম। ২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে দুই বছর ও বাকি চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ।