নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “স্বাধীনতার বিরোধিতা যারা করেছিল, তারা নিজেদের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। আজও তারা বাংলাদেশপন্থী হতে পারেনি। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের হাতে দেশের স্বাধীনতা নিরাপদ নয়। স্বাধীনতার ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি স্বাধীনতা রক্ষা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরীক্ষিত ও অঙ্গীকারাবদ্ধ।” তিনি বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলায় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে হালুয়াঘাট শহীদ মিনার ও ধোবাউড়া শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অনুষ্ঠিত দুটি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে দিল্লি, পিন্ডি, তুরস্ক, মস্কো কিংবা ওয়াশিংটনের প্রেসক্রিপশনে রাজনীতি বা দেশ চলবে না। দেশ চলবে দেশবাসীর কথায়।”
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতা যারা করেছিল, তারা একাত্তরকে নয়, শুধুমাত্র চব্বিশকে নিজেদের কলিজার টুকরা মনে করে। তারা ছাব্বিশ দিয়ে একাত্তরকে মুছে দিতে চায়। অথচ একাত্তরই আমাদের রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের মুখে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের কথা মানায় না।”
তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার ১৯ দফা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা—সব কর্মসূচিই স্বাধীনতার স্বপ্ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে প্রণীত।”
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে দেশবাসীকে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি একটি ইনক্লুসিভ, পজিটিভ ও বেটার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিজয় দিবসে শপথ হোক—আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধন : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজ দুপুরে হালুয়াঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হালুয়াঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার দেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সংবর্ধনা দিতে পেরে তিনি নিজেও গর্বিত। আজীবন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, হালুয়াঘাটে মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর প্রতিষ্ঠাসহ সম্মুখসমরে যুদ্ধের স্থানসমূহ চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হালুয়াঘাটের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবেন।
সংবর্ধনার জবাবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এমরান সালেহ প্রিন্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, হালুয়াঘাটের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, সম্মান ও স্মৃতি ধরে রাখতে এমরান প্রিন্স যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, অতীতে কেউ তা করেনি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে তারা প্রিন্সের সব কর্মকাণ্ডে তাঁর পাশে থাকবেন।