নিজস্ব প্রতিবেদক :: সাভারে আবারও আলোচনায় কুখ্যাত ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান রনি মিয়া ওরফে ‘কুত্তা রনি’ গ্রেপ্তার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভার পৌরসভার ডগরমোড়া এলাকায় এনসিপি নেতা তামিম আজহারের কাছ থেকে ছিনতাইচেষ্টার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত রনি মিয়া (৪৮) সাভারের ডগরমোড়া এলাকার মৃত আব্দুল গনি মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা, ছিনতাই ও মাদকসহ নানা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘কুত্তা রনি চক্র’ নামে পরিচিত অন্তত ৩০ জন সক্রিয় সদস্যের একটি বড় ছিনতাই বাহিনী পরিচালনা করছিলেন।
ভুক্তভোগী তামিম আজহার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাভার উপজেলা শাখার সাবেক মুখ্য সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাভার উপজেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, ঘটনাস্থল থেকে রনি মিয়াকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাত্র এক মাস আগে হত্যা মামলায় জামিন পেয়ে বের হয়েছিল রনি। জামিনে বেরিয়ে ফের ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে।
স্থানীয় একটি দোকানের সামনে তামিম আজহারের পথরোধ করে রনি ও তার সহযোগীরা সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। ধাওয়া করে রনিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে তারা।
পুলিশ জানায়, রনিকে বুধবার (২৬ নভেম্বর) আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন ‘কুত্তা রনি চক্র’-এর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।
এদিকে পৃথক ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনি এলাকায় ছিনতাইকালে মো. রাব্বি ওরফে পিনিক রাব্বি নামে আরেক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক চাকু উদ্ধার করা হয়। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রাব্বি (৩০) গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার চন্দ্র দিঘলিয়া গ্রামের আলী মোহনের ছেলে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগটি নিয়ে যায় এই কুত্তা রনি। আর মুস্তাফিজ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এরপর এই ছিন্তাইকারী আটক হলেও কিছুদিনের ভেতর আবার জামিনে এসে শুরু করে অপকর্ম।