January 15, 2026, 9:48 pm

রাজধানীতে টানা বৃষ্টি, সড়কে জমেছে হাটু পানি

Reporter Name
  • আপডেট Friday, July 12, 2024
  • 55 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :: বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি ঝরছে। আর এই টানা বৃষ্টির কারণে পুরো ঢাকায় বিভিন্ন সড়কে জমেছে হাটু পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে ইতোমধ্যে বেশিরভাগ এলাকার রাস্তায় পানি জমে গেছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা।
এদিকে এই বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি। পানি পার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, জাতীয় সংসদের সামনে, শাহজাহানপুর, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, তেজকুনি পাড়া, ধানমন্ডিসহ, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়ার বর্ডারবাজার, দক্ষিণ মনিপুরের মোল্লাপাড়াসহ রাজধানীর অনেকে রাস্তায় এরই মধ্যে পানি জমে গেছে।
অন্যদিকে ভারী বর্ষণের ফলে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি ফের বাড়ছে। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি পাঁচ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে জামালপুরে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে, নেত্রকোনায় পাঁচ দিন কমার পর উব্ধাখালী নদীর পানি ফের ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে কংশ নদীর পানি। সোমশ্বেরী নদীর পানি দুই পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। হাওড়ের ধনু নদীর পানিও বাড়ছে। ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল। দেশের নদ-নদীর পানি ফের বাড়ায় দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে আগামী তিন দিন দেশের পাঁচ বিভাগে ভারী বর্ষণের আভাস দেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে দেশের পাঁচ বিভাগে তিন দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে সিলেটে। এছাড়া কক্সবাজারে ৯২, নীলফামারীর ডিমলায় ৭৩, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৬৪, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৬ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।’
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি ধরনের ভারী, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে তাকে বলা হয়ে থাকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর