হযরত মাওলানা মুহম্মদ আবুল বাশার :: সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছি তা তুলে ধরার কোশেশ করেছি।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ৩৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সম্মানিত কিতাব উনার মধ্যে আসমান-যমীন সৃষ্টির শুরু থেকে গনণা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হচ্ছে হারাম বা সম্মানিত মাস। এটাই সঠিক দ্বীন। তোমরা এই মাসগুলোতে নিজের প্রতি জুলুম করো না।”অর্থাৎ এই হারাম মাস সমূহ উনাদের যথাযথ সম্মান-ইজ্জত বজায় রাখতে হবে এবং এই মাসগুলোতে নফসের প্রতি জুলুম করা যাবেনা।হারাম মাস সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,অর্থ: হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হল- পবিত্র জিলক্বদ শরীফ, পবিত্র জিলহজ্জ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হল মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ এবং পবিত্র শাবান শরীফ মাসের মাঝখানে অবস্থিত। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ শরীফ)
এই চারটি সম্মানিত মাস উনাদের মধ্যে অন্যতম মাস হলো পবিত্র মুহররম শরীফ। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,অর্থ: “তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাস উনাকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি মুহররম শরীফ মাস উনাকে সম্মান করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ)আরো বর্ণিত রয়েছে, অর্থ: “তোমরা মুহররম মাসের পবিত্র আশুরা শরীফ উনাকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি মুহররম মাসের পবিত্র আশুরা শরীফ উনাকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন।” সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র আশুরা শরীফ উনার সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে;অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আশুরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফে দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। আশুরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ উনার দিনেই আসমান থেকে সর্বপ্রথম রহমত মুবারক নাযিল করেন। আসমান থেকে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষণ করেন এই আশুরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ উনার দিনে।”পবিত্র আশুরা শরীফ উনার আমলের ফযীলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন, পবিত্র আশুরা শরীফ উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদিছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র আশুরা মিনাল মুহাররম শরীফ উনার দিন গোসল করবে তাকে সুস্থতা দান করা হবে। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতেও নিরাপদ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!পবিত্র আশুরা মিনাল মুহাররম শরীফে চোখে ইসমিদ সুরমা দেয়া সম্পর্কে পবিত্র হাদিছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,অর্থ: “যে ব্যক্তি আশুরা মিনাল মুহাররমুল হারাম শরীফ উনার সম্মানার্থে এই দিনে চোখে মেশক মিশ্রিত ইসমিদ সুরমা দিবে বা ব্যবহার করবে, সেদিন থেকে পরবর্তী এক বছর তার চোখে কোনো রোগ হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (মাক্বাছিদে হাসানাহ, শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ শরীফ)পবিত্র আশুরা মিনাল মুহাররম শরীফে ইয়াতীমের প্রতি উত্তম আচরণ করা সম্পর্কে পবিত্র হাদিছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,অর্থ: যে ব্যক্তি পবিত্র আশুরা মিনাল মুহাররমুল হারাম শরীফ উনার সম্মানার্থে কোন ইয়াতিমের মাথায় হাত বুলাবে, ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়াবে, পিপাসার্তকে পানি পান করাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাতের দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়াবেন এবং সালসাবিল ঝর্ণা থেকে পানি পান করাবেন। সুবহানাল্লাহ!আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি এই উম্মতের কারো হাযত পূরণ করবে তাকে খুশি করানোর উদ্দেশ্যে সে যেন আমাকেই খুশি করল। আর যে আমাকে খুশি করল সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে খুশি করল। যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে খুশি করল মহান আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (সুবহানাল্লাহ) (মিশকাত শরীফ)পবিত্র আশুরা শরীফ উনার দিনে পরিবারবর্গকে ভালো খাদ্য খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঅর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আশুরা শরীফ উনার দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এক বছরের স্বচ্ছলতা দান করবেন। সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ শরীফ)
এ প্রসঙ্গে একটি ওয়াকিয়া বর্ণিত রয়েছে, এক ব্যক্তি ছিলেন আলিম। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিন দিন যাবৎ কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল পবিত্র আশুরা শরীফ উনার দিন। তিনি আশুরা শরীফ উনার দিনে ভাল খাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে জানতেন। তখন ছিলো কাজীদের (বিচারক) যুগ। কাজী ছাহেব ধনী ব্যক্তি ছিলো। তার কাছে আশুরা শরীফ উনার ফযীলতের কথা বলে এবং নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের অভুক্ত থাকার কথা এবং আশুরা শরীফ উনার দিন ভাল খাওয়ার ফযীলতের কথা উল্লেখ করে দশ সের আটা, দশ সের গোশত ও দুই দিরহাম চাইলেন যে, ‘এই পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য হাদিয়া অথবা কর্জ হিসেবে দিন।’ কাজী ছাহেব উনাকে যোহরের সময় আসতে বললো। যোহরের সময় কাজী ছাহেব বললো, আছরের সময় আসতে। কিন্তু এরপরে আছরের সময় মাগরিব, মাগরিবের সময় ইশা এবং ইশার সময় সরাসরি নিষেধ করে দিলো। তখন আলিম ব্যক্তি বললেন, হে কাজী ছাহেব! আপনি আমাকে দিতে পারবেন না সেটা আগেই বলতে পারতেন, আমি অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তা না করে আমাকে সারাদিন ঘুরিয়ে এই শেষ মুহূর্তে নিষেধ করছেন? কাজী ছাহেব সেই আলিম ব্যক্তির কথায় কর্ণপাত না করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো।মনের দুঃখে আলিম ব্যক্তিটি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। পথে ছিলো এক খ্রিস্টানের বাড়ি। একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে কাঁদতে দেখে উক্ত খ্রিস্টান উনাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু বিধর্মী বিধায় খ্রিস্টানকে প্রথমে তিনি কিছু বলতে চাইলেন না। অতঃপর খ্রিস্টানের অধীর আগ্রহের কারণে তিনি আশুরা শরীফ উনার ফযীলত ও কাজী ছাহেবের সাথে সংঘটিত ঘটনার কথা ব্যক্ত করলেন। খ্রিস্টান ব্যক্তি তখন উৎসাহী হয়ে উনাকে আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং অতিরিক্ত আরও বিশ দিরহাম দিতে চাইলো। সে খ্রিস্টান হওয়ার আলিম ব্যক্তি তা নিতে চাইলেন না। খ্রিস্টান ব্যক্তির অত্যাধিক উৎসাহের কারণে আলিম ব্যক্তি সেগুলো কর্জ হিসেবে নিতে রাজী হলেন। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি উক্ত আলিম সাহেবকে পবিত্র আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দেরহাম এবং অতিরিক্ত আরো বিশ দিরহাম দিলো। দিয়ে খ্রিস্টান ব্যক্তি অনেক কাকুতি-মিনতি করে আরজু করলো যে, আমি এগুলো আপনাকে পবিত্র আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে হাদিয়া দিতে চাই আপনি দয়া করে কবুল করুন এবং আপনাকে আমি আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে প্রতিমাসে এ পরিমাণ হাদিয়া দিতে চাই। তার কাকুতি-মিনতীর কারণে আলিম সাহেব কবুল করলেন। অতঃপর ঐ আলিম ব্যক্তি তখন তা নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং খাবার তৈরি করে ছেলে-মেয়েসহ আহার করলেন। অতঃপর দোয়া করলেন, “আয় আল্লাহ পাক! যে ব্যক্তি আমাকে সন্তুষ্ট করলো, আমার ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটালো, আল্লাহ পাক! আপনি তার দিল খুশি করে দিন, তাকে সন্তুষ্ট করে দিন।”ওই রাতে কাজী ছাহেব স্বপ্ন দেখলো, স্বপ্নে কাজী ছাহেবকে বলা হচ্ছে, হে কাজী ছাহেব! তুমি মাথা উত্তোলন করো। মাথা তুলে কাজী ছাহেব দেখতে পেলো যে, তার সামনে দু’টি বেহেশতের বালাখানা। একটি স্বর্ণের বালাখানা আরেকটি রৌপ্যের বালাখানা। কাজী ছাহেব বললো, ‘আয় আল্লাহ পাক! এ দু’টি কি?’ গায়েবী আওয়াজ হলো, ‘এ দু’টি বেহেস্তী বালাখানা। তখন কাজি সাহেব জানতে চাইলো কার জন্য? বলা হলো এ বালাখানা দু’টি তোমারই ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে আলিম লোকটি আশূরা শরীফ উপলক্ষে সহযোগিতার জন্য এসেছিলেন উনাকে তুমি সহযোগিতা করনি। এখন বালাখানা দু’টি ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ কারণ উক্ত খ্রিস্টান ব্যক্তি সেই আলেম সাহেবকে পবিত্র আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে সাহায্য করেছে। এটা শুনে ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ার কারণে কাজী ছাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘুম থেকে উঠে ওজু ও নামায আদায় করে খুব সকালেই সেই খ্রিস্টানের বাড়িতে গেলো। খ্রিস্টান ব্যক্তির সকালে উঠার অভ্যাস ছিলোনা। কিন্তু দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে উঠে দরজা খুলে খ্রিস্টান ব্যক্তি কাজী ছাহেবকে দেখে বিস্ময়াভুত হলো। কারণ কাজী ছাহেব খ্রিস্টানের পড়শি হওয়া সত্ত্বেও জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সময় তার বাড়িতে আসতে দেখেনি। অতঃপর খ্রিস্টান কাজী ছাহেবকে বললো, ‘আপনি এতো সকালে কি জন্য এলেন?’ কাজী ছাহেব বললো, ‘হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাত্রে যে নেক কাজ করেছো তা আমার কাছে বিক্রি করে দাও। আমি তোমাকে এক লাখ দেরহাম দিবো। কাজী ছাহেবের কথায় খ্রিস্টান লোকটি আশ্চর্য হলো। সে বললো, কাজী ছাহেব! আমি আপনার কথার কিছুই বুঝতেছি না। আপনি কেন আমাকে এক লাখ দেরহাম দিবেন। তখন কাজী ছাহেব পুনরায় বললো, হে খ্রিস্টান ব্যক্তি! তুমি গত রাতে যে নেক কাজ করেছো তা আমার কাছে বিক্রয় করে দাও।’ আমি তোমাকে এক লাখ দেরহাম দিবো। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, আমার খেয়ালে আসে না যে, আমি গতরাতে কোনো উল্লেখযোগ্য নেক কাজ করেছি। তবে আপনি যদি জেনে থাকেন তাহলে আমাকে বলতে পারেন। তখন কাজী ছাহেব বললো, তুমি গত রাতে আশূরা শরীফ উপলক্ষে এক আলিমকে দশ সের আটা, দশ সের গোশত, দুই দিরহাম এবং তার সাথে আরো বিশ দিরহাম হাদিয়া করেছো এবং প্রতি মাসে উনাকে এ পরিমাণ হাদিয়া দেয়ার ওয়াদা করেছো। খ্রিস্টান ব্যক্তি তা স্বীকার করলো। কাজী ছাহেব বললো, তুমি তোমার এই নেক কাজ এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে আমার নিকট বিক্রি করে দাও এবং তুমি উনার সাথে প্রত্যেক মাসে যে ওয়াদা করেছ আমি উনাকে তা দিয়ে দিবো।’ খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আপনি কি জন্য এই সামান্য হাদিয়া করার বিনিময়ে আমাকে এক লক্ষ দিরহাম দিবেন সেটা স্পষ্ট করে বলুন? তখন কাজী ছাহেব তার স্বপ্নের কথা খুলে বললো যে, এই আলিম আশূরা শরীফ উপলক্ষে আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলো আমি তাকে সহযোগিতা করিনি। যার কারণে রাতের বেলা আমাকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দ্বারা তৈরি বেহেশতের দু’টি বালাখানা স্বপ্নে দেখিয়ে বলা হয়েছে, হে কাজী ছাহেব! ‘এ বালাখানা দু’টি তোমার ছিলো। কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে আলিম ব্যক্তিটি আশূরা শরীফ উপলক্ষে সহযোগিতার জন্য এসেছিলেন উনাকে তুমি সহযোগিতা করনি। অমুক খ্রিস্টান সহযোগীতা করেছে সে জন্য এ বালাখানা দু’টি এখন ওমুক খ্রিস্টান লোকের হয়েছে।’ তখন কাজী ছাহেব বললো, তুমি তো খ্রিস্টান। তুমি তো এই বালাখানা পাবে না। কারণ, ইসলাম আসার পরে পূর্ববর্তী সমস্ত ধর্ম বাতিল হয়ে গেছে। কাজেই সেই ধর্মের উপর যারা থাকবে তারা জান্নাত লাভ করতে পারবে না। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! আমি কিভাবে সেই বালাখানা লাভ করতে পারবো? সেই বালাখানার মালিক হওয়ার কোন সুযোগ কি আমার জন্য আছে? তখন কাজী ছাহেব বললো, হ্যাঁ, তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হও তাহলে তুমি বালাখানা লাভ করতে পারবে। তখন খ্রিস্টান ব্যক্তি বললো, হে কাজী ছাহেব! যদি ইসলাম গ্রহণ করলে সেই জান্নাতী বালাখানা লাভ করা যায়, তাহলে আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি এক্ষণি কালিমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম।” সুবহানাল্লাহ! তখন লোকটি বললেন এখন কি আমি বালাখানা পাব? কাজী ছাহেব বললেন, হ্যাঁ, এখন আপনি বালাখানা পাবেন। তখন কাজি ছাহেব আরো অস্থির, পেরেশান, বেকারার এবং অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেলো।এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য ইবরত নছিহতের বিষয় হলো, কাজি ছাহেব পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান না করার কারণে জান্নাতের দু’টি বালাখানা থেকে মাহরুম হল। নাঊযুবিল্লাহ! আর খ্রিসটান ব্যক্তি আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করার কারণে ঈমান নসিব হল এবং সম্মানিত জান্নাত উনার বালাখানারও মালিক হয়ে গেল।(আল ইহসান;আল বাইয়্যিনাত) সুবহানাল্লাহ!পবিত্র আশূরা শরীফ উনার সম্মানার্থে রোযা রাখা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “রমাদ্বান শরীফ মাস উনার পর শ্রেষ্ঠ রোযা হচ্ছে, মুহাররম শরীফ মাস উনার রোযা।” (মুসলিম শরীফ)উল্লেখ্য, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রোযা ফরজ হওয়ার আগে আশুরা শরীফ উনার রোযা ফরজ ছিল। যখন রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা ফরজ হয় তখন আশূরা শরীফ উনার রোযা রাখার ইখতিয়ার দেয়া হয় অর্থাৎ কেউ ইচ্ছা করলে আশূরা শরীফ উনার রোযা রাখতে পারবে, অথবা ভঙ্গ করতে পারবে। তবে যে ব্যক্তি আশুরা শরীফ উনার রোযা রাখবে সে কেমন ফযিলত লাভ করবে সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,.
অর্থ: হযরত আবূ কতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আশুরা শরীফ উনার রোযা রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার বিগত বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে,অর্থ: “যে ব্যক্তি আশুরা মিনাল মুহাররমুল হারাম শরীফ উনার দিনে রোযা রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার আমলনামায় ষাট বছর দিনে রোযা রাখার এবং রাতে ইবাদত বন্দেগী করার ছওয়াব দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! আরো বর্ণিত রয়েছে,
অর্থ: “যে ব্যক্তি আশুরা শরীফ উনার মধ্যে রোযা রাখল সে যেন পূর্ণ এক যুগ ধরে রোজা রাখল।” সুবহানাল্লাহ!
এই দিনে রোযাদারদের ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-অর্থ: “যে ব্যক্তি আশুরা শরীফ উনার রাতে কোন মু’মিনকে ইফতার করাবে সে যেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো। অর্থাৎ সে সমস্ত উম্মতকে ইফতার করানোর সওয়াব লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদিনা শরীফে তাশরীফ মুবারক এনে দেখতে পেলেন, ইহুদীরা আশুরা শরীফ উনার দিনে রোজা রাখে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোন দিন, যেদিন তোমরা রোযা রাখ? ইহুদীরা বলল, এটা মহান দিন। এই দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মুসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার কওমকে ফিরাউন থেকে রক্ষা করেছেন। আর ফিরাউন এবং তার কওম লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছেন। তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তিনি শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখলেন। আমরাও রোজা রাখি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে তোমাদের থেকে সর্বাধিক হক্বদার ও নিকটবর্তী। অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিত পিতা, অতপর, তিনি রোজা রাখলেন এবং উম্মতদেরকেও রোজার রাখার মুবারক নির্দেশ দিলেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
তবে যে বিষয়টা- তোমরা আশুরা শরীফ উনার রোজা রাখবে এবং ইহুদীদের খিলাফ করবে। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আশুরা শরীফ উনার রোযা রাখো এবং ইহুদীদের খিলাফ করো। রোযা রাখবে, একদিন আগে অথবা একদিন পরে অর্থাৎ ৯, ১০ তারিখ অথবা ১০, ১১ তারিখ রোযা রাখবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়।” (আবূ দাঊদ শরীফ)আর মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা মায়িদা শরীফ উনার ৫১ নং আয়াত উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী-নাছারাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে থেকে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারা তাদেরই দলভুক্ত হবে। মহান আল্লাহ পাক জালিমদেরকে হিদায়েত দান করেন না। অর্থাৎ তারা কাফিরদের বন্ধু হওয়ার কারণে জালিম সাব্যস্ত হবে। সাথে সাথে হিদায়েত থেকে বঞ্চিত হবে। সর্বপরি, বান্দা-বান্দী, জ্বীন-ইনসান যদি মহাসম্মানিত পবিত্র আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে উপরোক্ত হাদীছ শরীফ উনাদের উপর আমল করে তবে ইহকাল ও পরকালের কামিয়াবী হাসিল করতে পারবে।
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা মহা-সম্মানিত ইমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আযম ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুত্বহহারাহ, মুত্বহহিরাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের মুবারক উসিলায় আমাদেরকে মহাসম্মানিত পবিত্র আশুরা শরীফ উনার সম্মানার্থে উপরোক্ত নিয়ামত মুবারক লাভ করে শুকরিয়া স্বরূপ দুনিয়াবী যাবতীয় নাজ-নিয়ামত এবং পরকালীন নিরাপত্তা ও নাজাত লাভ করার তাওফিক দান করেন। আমীন!