নিজস্ব প্রতিবেদক:: ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জীবন দিয়ে চিরজীবনের মতো আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পুনঃস্থাপনকৃত ফলক উন্মোচন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সূচনা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এটি পরিবর্তন করে ফেলা হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ধরে রাখতে আরএমপির গৌরবময় ইতিহাসকে পুনঃস্থাপন করা হলো।
রাজশাহী মহানগরী থেকে জুয়া, ভূমিদস্যু ও মাদক চোরাকারবারিদের কঠোরহস্তে নির্মূল করতে আরএমপিকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজশাহীকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে না।
তিনি আরো বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকার মাদক ও অবৈধ চোরাচালান দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই চক্রকে তিনি জাতির শত্রু বলে আখ্যায়িত করেন এবং মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে আরএমপিকে আরো কঠোর হতে বলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে রাজশাহীর শান্তি-শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, আরএমপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সুধীজন।