June 3, 2026, 8:03 am

পূবাইলে কালভার্টের নিচে পাওয়া অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদঘাটন, প্রেমিকাসহ গ্রেপ্তার ৬

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, January 29, 2026
  • 90 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন হাড়িবাড়িরটেক এলাকায় কালভার্টের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত ব্যক্তি কেরানীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৭ বছর বয়সী যুবক আদিয়াত বলে শনাক্ত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ২ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আদিয়াত। তিনি এইচএসসি পাস করার পর পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও কোনো সুরাহা না পেয়ে আদালতের মাধ্যমে কদমতলী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে।
পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের কিশোরী তাসলিমার নাম উঠে আসে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, আদিয়াতের মায়ের ব্যবহৃত একটি সিম তাসলিমা ব্যবহার করছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গোয়েন্দা হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তাসলিমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, আদিয়াতের সঙ্গে তার প্রায় এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সম্পর্ক ভেঙে গেলে সে গাজীপুরের আরাফাত হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। আরাফাত সৌদি আরবে অবস্থানকালে আদিয়াত তার কাছে থাকা আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে তাকে উত্যক্ত করছিল বলে দাবি করে তাসলিমা। এ ঘটনার জের ধরেই আদিয়াতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত দেশে ফিরে আসার পর ৩ নভেম্বর শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাসলিমা আদিয়াতকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে কালীগঞ্জের উলুখলা হয়ে তাকে পূবাইল এলাকায় আনা হয়।
পরে আরাফাত তার সহযোগীদের নিয়ে গলায় সুতা পেঁচিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আদিয়াতকে হত্যা করে। হত্যার পর লাশটি টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের পূবাইল থানার হাড়িবাড়িরটেক এলাকার একটি কালভার্টের নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এরপর ৪ নভেম্বর ওই স্থান থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশ উদ্ধার করে পূবাইল থানা পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে গাজীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাজমুল হক জানান, কালভার্টের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য ঢাকার গোয়েন্দা বিভাগ উদ্ঘাটন করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, প্রথমে অস্বীকার করলেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।
এ ঘটনায় টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাসলিমার প্রেমিক আরাফাত হোসেনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন; তাসলিমা, আরাফাত হোসেন, রকিব মিয়া, সাকিব খান, নয়ন মিয়া ও নুরুজ্জামান শ্যামল। এ মামলায় আরও তিনজন আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর