April 21, 2026, 7:01 am

পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, চরম দুর্ভোগে ক্লান্ত মানুষ

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, April 4, 2026
  • 42 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যার জেরে রাজধানীজুড়ে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অনিশ্চয়তা নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হচ্ছেন অনেকে। তবুও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ফল মিলছে না, ফিরছেন প্রয়োজনীয় তেল না পেয়েই।
রাজধানীর রাজারবাগ, মহাখালী, মৎস্য ভবন, বাড্ডা, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে একই অবস্থা। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।
কেউ কেউ এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না। এতে দৈনন্দিন কাজ, যথাসময়ে অফিস যাতায়াত ও জীবিকা নির্বাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
তাদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কোথাও কোথাও তেল মজুত রেখেও বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম নয়, তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা ও ‘ফুল ট্যাংক’ করার প্রবণতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে– মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট অঙ্কের ও প্রাইভেটকারে নির্দিষ্ট লিটার পর্যন্ত।
এদিকে, তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেকে রাস্তায় দাঁড়িয়েই খাবার খাচ্ছেন, কেউ অফিস মিস করছেন। কেউ আবার অতিরিক্ত খরচ করে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার মেরুল বাড্ডা ফিলিং স্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে কোনো কর্মচারীও ছিলেন না। একটু সামনে এগোতেই উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির মক্কা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। সেখানে কথা হয় মোটরসাইকেল চালক মাসুদ করিম রেজার সঙ্গে। তিনি একটি অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ার করেন। মাসুদ করিম বলেন, বাইকের চাকা ঘুরলে আমার ইনকাম, না ঘুরলে না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা হয়। এ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় চলে যায়।
তিনি মনে করেন, তেলের সংকট যতটা দেখা যাচ্ছে ততটা নয়। তেল হয়ত প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম, তবে অনেকে অবৈধভাবে তেল মজুত করার কারণে সংকট প্রকট হচ্ছে।
মক্কা রিফুয়েলিং স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, সকালে পাম্প খোলার আগে থেকেই তেলের জন্য লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। আমরা সবাইকে তাদের প্রয়োজন মতো তেল দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই পাম্পে কোনো বাড়তি টাকা রাখা হচ্ছে না।
রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে গিয়েও তেলের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে ব্যাংক কর্মকর্তা মারুফ হাসান বলেন, তেলের জন্য দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আজ তেল নিতেই হবে যত সময়ই লাগুক। কেননা আগামীকাল (রোববার) থেকে অফিস খোলা। তখন লাইনে দাঁড়ালে অফিসে দেরি হবে।
কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন– জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে হয়ত আরও ৫০ জন আছেন। দেখা যাক কতক্ষণে তেল পাই।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পাম্পে যতক্ষণ তেল থাকবে, মানুষকে দেওয়া হবে। তবে তারা জানান, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, একটা চক্র তেল মজুত করছে। এমনকি সাধারণ মানুষও তেল মজুত করছেন। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
মগবাজারে ‘মঈন মোটর ফিলিং স্টেশন’, রমনার ‘রমনা ফিলিং স্টেশন’, তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকার ‘সিটি ফিলিং স্টেশন’, মহাখালীর ‘ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন’, ‘এস. আর. এন্টারপ্রাইজ’, ‘রয়েল ফিলিং স্টেশন’, নীলক্ষেত মোড়ের ‘পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশন’সহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে একই ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর