দেওয়ান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিবেদক:: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জের পাঁচপীর বাজার থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করবেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর নামকরণ করা হয় ‘মওলানা ভাসানী সেতু, গাইবান্ধা’।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি চালু হলে দুই উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন। কৃষি ও শিল্পপণ্য পরিবহন সহজ হবে, পরিবহন ব্যয় কমে আসবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দূরত্ব কমে যাবে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং ঢাকার সঙ্গে চিলমারীর দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার।
সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (SFD) ও ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (OFID) সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই আধুনিক সেতু। প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ১,৪৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ৯ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট। এতে দুটি লেন রয়েছে এবং ৩১টি স্প্যানের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার প্রযুক্তিতে নির্মিত।
এলাকার মানুষ এতদিন নদী পারাপারে নৌকা বা খেয়ায় নির্ভর করতেন। বর্ষাকালে প্রায় দেড় কিলোমিটার প্রশস্ত নদী পার হওয়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও দুরূহ। সেতুটি চালুর মাধ্যমে তাদের সেই দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।